—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
স্কুলে তখন সরস্বতী পুজোর আবহ। হঠাৎ পর পর ঢুকল চারটি গাড়ি। একটিতে নীলবাতি লাগানো। হোমরাচোমরা কেউ পুজো উপলক্ষে এসেছেন স্কুলে—ভেবে নেন অনেকে। তিনটি গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেমে আসেন কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষী। নীলবাতি লাগানো গাড়ির দরজা খুলে দেন। বেরিয়ে আসে ব্লেজ়ার, ট্রাউজারে সজ্জিত বছর ষোলোর এক তরুণ। সে নিজের পরিচয় দেয়, আয়কর দফতরের বড় অফিসার হিসাবে!
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের একটি স্কুলে শুক্রবারের ঘটনা। ছেলেটির হাবভাব দেখে সকলে স্তম্ভিত। কী করতে এসেছে জানতে চাইলে সে জানায়, পুজো কেমন হচ্ছে দেখতে এসেছে। কিন্তু এত অল্প বয়সে সরকারি অফিসার! ভুরু কুঁচকে ছেলেটি জবাব দেয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আছে, বিশেষ নিয়মে কম বয়সেও সরকারি চাকরি পাওয়া যায়।
ঘটনাটা সন্দেহজনক ঠেকছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের। খবর যায় থানায়। পুলিশ আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে চারটি গাড়ি, জনা আটেক নিরাপত্তারক্ষী-সহ ছেলেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, ছেলেটি অশোকনগরের বাসিন্দা, এখনও মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি! তদন্তকারীদের দাবি, সে জানিয়েছে, বন্ধুদের সামনে ‘কেউকেটা’ সাজতেই পুরো নাটক ফেঁদেছিল। অনলাইনে একটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আগ্নেয়াস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মী ভাড়া করে। ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। আট হাজার টাকা অগ্রিম দেয়। নিরাপত্তাকর্মীরা একটি স্বীকৃত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। আয়কর দফতরের ভুয়ো পরিচয়পত্রও বানিয়েছিল ছেলেটি।
পুলিশ অভিভাবকদের থানায় ডেকে পাঠায়। তাঁরা মুচলেকা দিয়ে ছেলেকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশের দাবি, পরিবারটি জানিয়েছে, ব্যবসায়ী বাবার নিরাপত্তার নাম করে সে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে ওই নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “বহু ঘটনা দেখেছি। এমন কাণ্ড দেখিনি!”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে