Abhishek Banerjee

ধরন বদলে, মমতা-মন্ত্র জুড়ে এগোচ্ছেন অভিষেক

গত কয়েক বছরে অন্তত ১০ বার সংবাদের শিরোনামে এসেছে মমতা-অভিষেক সম্পর্কের সমীকরণ।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৭
Share:

বৈভব বা ক্ষমতার প্রদর্শন নিয়ে ‘ঔদ্ধত্যে’র আঙুল তাঁর দিকে। তাতে আমল দেন না। তবে রাজনৈতিক জীবনের বড় পরীক্ষার আগে নিজের উপস্থাপনায় বদলের কৌশল নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ছুঁইয়ে নেতা হিসেবে নিজের ‘গ্রহণযোগ্যতা’ বাড়িয়ে নিচ্ছেন তিনি।

গত কয়েক বছরে অন্তত ১০ বার সংবাদের শিরোনামে এসেছে মমতা-অভিষেক সম্পর্কের সমীকরণ। বিরোধীরা তো বটেই, দলের প্রথম সারির নেতা-মাথারাও থেকে থেকেই খোঁজ করেছেন, ‘হাওয়া’ কেমন? এ বারের ভোটের মুখে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়টিই মসৃণ রেখেছে রাজ্যের শাসক দলের যাত্রা। দলের একাংশের মতে, খুব সচেতন ভাবে এই পরিবেশ বজায় রাখছেন অভিষেক। তিনি বুঝেছেন, এ বারের লড়াইয়ে এই রকম যে কোনও ফাঁক বদলে দিতে পারে দলের ভবিষ্যৎ। তাঁর আচরণ অনেক বেশি ‘পরিণত’ বলে মনে করছেন মমতা শিবিরের একাধিক নেতা। তাঁদের কথায়, এ দলে প্রশ্নহীন আস্থা পেতে মমতার ছোঁয়া দৃশ্যমান হওয়া চাই। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে দেওয়া নির্দেশিকার সঙ্গে অভিষেক জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কে কী করলেন, দলনেত্রীকে সব রিপোর্ট পাঠানো হবে। তিনি সব দেখবেন’। দলের এক নেতা বলেন, “নেত্রী দেখবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু দলকে এক সুরে রাখতে হলে যে ওই নামটি এখনও নির্বিকল্প, তা স্পষ্ট।” তবে এই মুহূর্তে আশি ভাগ সিদ্ধান্ত যে একক ভাবে অভিষেকই নিচ্ছেন, তা-ও জানেন তাঁরা।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অভিষেকের পরিশ্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। এবং সরকার গঠনের পরে ‘যুবরাজ’ এবং তাঁর অনুগামীদের উপস্থিতি এতই তীব্র হয়েছিল যে, গুঞ্জন শুরু হয়েছিল নেতৃত্ব নিয়ে। তার পরেও একাধিক বার সংগঠন ও প্রশাসনে অভিষেকের ‘গতি’ নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল তৃণমূলে।

আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের পরে সামগ্রিক ভাবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিষেকের অসন্তোষের ‘অর্থ’ খোঁজা শুরু হয়েছিল দলের একাংশেই। পুলিশ-প্রশাসনের ব্যর্থতায় অখুশি অভিষেক কী চান, তা নিয়ে গুঞ্জন ছিল চরমে। এ বার তা নিয়ে নিশ্চিন্ত তৃণমূল। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত পর্বে অভিষেক বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলে পালাবার পথ পাবে না!” তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান পদাধিকারীর মতে, “এটা দু’তরফের উপলব্ধির ফল। দিদিও অভিষেকের হাতেই সংগঠন ছেড়ে দিয়েছেন। তা জেনেই ভোটের বাজারে অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন ক্ষমতা মেনে নিয়েছেন।”

তাই ভোটের প্রচারে অভিষেকের কপ্টারের চমক, র‌্যাম্প, রোড শো-এর গমক নিয়ে কানাঘুষো থাকলেও তা কানে তুলছেন না দলে অভিষেকের সমালোচকেরাও। নবীনের ছড়ি ঘোরানোয় এত দিন যে ক্ষোভের কথা আড়ালে-আবডালে শোনা যেত, তা ঝেড়ে এগিয়ে আসছেন প্রবীণেরা। অভিষেক ঘনিষ্ঠ এক নেতা অবশ্য বলছেন, “ধরন বদলে নিয়েছেন অভিষেক। এই তো ‘যুবরাজ’ লেখা ব্যানার খুলিয়ে দিয়েছেন একটি কর্মসূচিতে!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন