(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
ব্যারাকপুরের কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড। সেই বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে শাহের নিশানায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহ প্রশ্ন তুলে দেন, মমতার সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’র কারণে কি এখনও গ্রেফতার হননি ‘ওয়াও মোমো’র মালিক? শাহের আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে এ বার পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদী, মেহুল চোকসীর প্রসঙ্গ টানলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ‘‘নীরব মোদী গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে!’’
আনন্দপুরের ঘটনা ‘সমর্থন’ না-করেই বিজেপি এবং শাহর উদ্দেশ্যে আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক। বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘একটা ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির কায়দা। শকুনের মতো মৃতদেহ খোঁজে। মৃত্যুর রাজনীতি করে, লাশের রাজনীতি করে।’’ তৃণমূল নেতার মতে, ‘‘কোথাও কোনও ভুলত্রুটি ঘটে, তবে সকলকে কাঁধে মিলিয়ে এটা সুনিশ্চিত করতে হবে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না-ঘটে।’’
‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার অন্যতম কর্ণধার সাগর দরিয়ানির সঙ্গে মমতার ‘ঘনিষ্ঠতা’র বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। সেই সুরকে আরও কয়েক ধাপ চড়িয়ে ব্যারাপুরের সভা শাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এই কাণ্ড কেন হল? এই মোমো কারখানার মালিকের কাছে কার পয়সা খাটছে? এই মোমো কারখানার মালিক কার ঘনিষ্ঠ? কার সঙ্গে বিমানে বিদেশ সফরে গিয়েছেন? এখনও পর্যন্ত মোমো কারখানার মালিককে গ্রেফতার করা হল না কেন?’’ শাহ এবং বিজেপির তোলা এ হেন প্রশ্ন ‘ভিত্তিহীন’ বলে বুঝিয়ে দিলেন অভিষেক। তাঁর মতে, ‘‘শিল্পপতি হিসাবে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা যাবেন না তো কারা যাবেন?’’ তার পরেই তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, আনন্দপুরে মৃত্যুর জন্য যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী হন, তবে গোয়া বা ইনদওরের ঘটনার জন্য দায়ী কে? অভিষেক সরাসরি দাবি করেন, ‘‘ওই সব ঘটনার জন্য তো প্রধানমন্ত্রী দায়ী।’’ উল্লেখ্য, গোয়ার নৈশক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ২০ জনের বেশি মৃত্যু হয়। ইনদওরে ‘দূষিত’ জল পান করে অনেকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ আরও অনেকে। সেই ঘটনাগুলি টেনে অভিষেকের দাবি, সব ক্ষেত্রেই দায়ী মোদী!
অভিষেক বলেন, ‘‘একটা বেসরকারি গুদাম কী অবস্থায় রয়েছে, তা সরকারের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। সরকার খবর পেয়ে যথেষ্ট সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছে। যাঁদের গাফলতির জন্য এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ তৃণমূল সাংসদ বুঝিয়ে দেন, যদি আনন্দপুরের ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকেন, তাঁদেরও রেয়াত করা হবে না। অভিষেকের কথায়, ‘‘যত বড় শিল্পপতি হোন না কেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।’’
অভিষেকের দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিদেশসফরে গিয়েছেন বলে, একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছেন। নীরব মোদী, মেহুল চোকসীর মতো ব্যবসায়ীর সঙ্গে তো নরেন্দ্র মোদীও বিদেশ সফরে গিয়েছেন। মোদীর সঙ্গে কার ছবি রয়েছে? নীরব মোদীর ছবি নেই?’’ শুধু আনন্দপুরের ঘটনা নয়, এসআইআর এবং অনুপ্রবেশকারী নিয়েও শাহকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন অভিষেক।
ব্যারাকপুরের সভা শাহ দাবি করেন, ‘‘১০ লক্ষ কোটির বেশি টাকা বাংলার সরকারকে দিয়েছি। আপনাদের গ্রামে এসেছে? কোথায় গেল? সব টাকা, যা মোদীজি পাঠান, তা তৃণমূল সিন্ডিকেটের হাতে যায়।’’ তবে শাহের দাবি মানতে নারাজ অভিষেক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘২০২১ সালে হেরে যাওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে কত টাকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র? হিসাব দিক। উল্টে এ রাজ্য থেকে করের টাকা নিয়ে গিয়েছে দিল্লিতে।’’
শাহ দাবি করেন, ‘‘মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন মমতা।’’ সেই প্রসঙ্গে অভিষেকের প্রশ্ন, ‘‘তাঁর দলের নেতারাই নাম বাদ যাওয়ার কথা বলছেন। এসআইআর শুরুর আগে থেকেই তাঁরা বলছেন এক কোটি নাম বাদ যাবে। তৃণমূল তো এমন কোনও কথা বলেনি।’’ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দাবি, শান্তনু ঠাকুর, জগন্নাথ সরকারদের থেকে কেন জবাব চাওয়া হবে না? খসড়া তালিকায় বাদ যাওয়া ভোটারের তালিকায় কত জন বাংলাদেশি, কত জন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা কেন নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করছে না, প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর শুরু আগেই কমিশনকে নাম বাদ দেওয়ার ‘টার্গেট’ বেঁধে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সেই মতো কাজ করছে কমিশন।