নদিয়ায় রোড শোয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার!
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে শনিবার দুপুরে মালদহের সভা থেকে নতুন স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার হুগলির সিঙ্গুরের সভাতেও সেই স্লোগান শোনা গিয়েছিল মোদীর মুখে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হওয়ার আগেই নদিয়ার রোড শো থেকে পাল্টা জবাব দিয়ে দিলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারের ঢঙেই আত্মবিশ্বাসী সুরে দাবি করলেন, এ বারও বাংলা থাকবে তার ‘মেয়ের কাছেই’।
রবিবার নদিয়ার চাপড়ায় রোড শো ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভাও ছিল সিঙ্গুরে। মোদীর ভাষণ শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই ভাষণ দিতে শুরু করেন অভিষেক। সেখানেই নতুন স্লোগান নিয়ে মোদীকে কটাক্ষ করেন তিনি। কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘কাল মোদীজি বলেছেন, পাল্টানো দরকার। বাংলার মানুষকে আপনারা শাস্তি দিয়ে পাল্টাতে চান। আমি একমত আপনার সঙ্গে, পাল্টানো দরকার। কিন্তু বাংলার মানুষ পাল্টাবে না, পাল্টাবেন আপনারা। পাল্টাবে দিল্লি-গুজরাতের বহিরাগতেরা। যারা আগে জয় শ্রীরাম বলে সভা শুরু করত, এখন তারাই জয় মা কালী আর জয় মা দুর্গা বলে সভা শুরু করে! বাংলার মানুষ আপনাদের কাছে মাথা নত করবে না।’’
শনিবার মালদহের সভায় মোদী বলেছিলেন, ‘‘এখন বাংলায় সুশাসনের সময় এসেছে। বিজেপি বাংলায় সুশাসন এনেই ছাড়বে! আপনারা সবাই মিলে আমার সঙ্গে একটা সঙ্কল্প গ্রহণ করুন। আমি বলব, পাল্টানো দরকার। আপনারা বলবেন, চাই বিজেপি সরকার।’’ এ কথা বলে পর পর পাঁচ বার স্লোগান তোলেন প্রধানমন্ত্রী। জনতা তার প্রত্যুত্তর দেয়। রাত পোহানোর আগে মোদীর বাঁধা স্লোগান নিয়ে নতুন গানও প্রকাশ করে ফেলে বিজেপি। রবিবার সকাল থেকে সিঙ্গুরের সভাস্থলে সেই গানই বাজছিল একটানা। সিঙ্গুরের সভায় ভাষণ দেওয়ার সময়েও মোদী নতুন স্লোগানের পুনরাবৃত্তি করতে ভোলেননি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষের আগেই জবাব দিয়ে দেন অভিষেক।
নদিয়ার চাপড়ায় রোড শোয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
পাশাপাশি, নদিয়ার রোড শো থেকে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, তেহট্টের এক বিজেপি এক নেত্রী নর্দমা তৈরির নামে দলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অন্য এক গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়ছয় করেছেন ১০০ দিনের কাজের টাকা। গত লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের কাছে ৫৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত বিজেপির প্রার্থী অমৃতা রায় তাঁর দলের বিরুদ্ধএ যে অভিযওগ তুলেছিলেন, তা-ও স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক। অভিযোগ করেন, কৃষ্ণনগর শহরে একটি বাড়ি ‘জবরদখল’ করে বিজেপির পার্টি অফিস চলছে। সেই সূত্রেই অভিষেকের প্রশ্ন, ‘‘যে দলের পার্টি অফিসই অবৈধ, সেই দলকে আমাদের নাগরিকত্বের বৈধতার পরিচয় দিতে হবে?’’
অভিষেক জানান, কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা না দিলেও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরাসরি ২০ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাংলার বাড়়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পাঠিয়ে দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শেষে মোদীর স্লোগানের পাল্টা হিসাবে তৃণমূল সেনাপতি বলেন, ‘‘আগের বার বলেছিলাম, বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। এ বার বলছি, মেয়ের কাছেই থাকবে বাংলা, কর তুই পারিস যতই হামলা, পারলে এবার মোদীবাবু দিল্লি সামলা!’’
অভিষেকের ভাষণের মধ্যে এক বৃদ্ধা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বক্তৃতা থামিয়ে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন অভিষেক। নিজের জলের বোতল থেকে জল দেন। সরে গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে জায়গা করে দেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। চোখেমুখে জল ছেটানোর পর বৃদ্ধাকে অভিষেকেরই গাড়িতে বসানো হয়। চিকিৎসক ডাকারও ব্যবস্থা করা হয়। ভাষণ শেষের মুখে আরও একবার বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন অভিষেক। প্রসঙ্গত, শনিবারও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। পরে জানা গিয়েছিল, তিনি হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ! অভিষেকের বক্তৃতা চলাকালীন সভাস্থলেই মাথা ঘুরে পড়ে যান নিয়ামত। উপস্থিত জনতার সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় অসুস্থ বিধায়ককে।