TMC Councillor Unnatural Death

‘আত্মঘাতী’ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক’দিন আগেই পোস্টার পড়ে এলাকায়, ‘দখল করা’ জমি ফেরত চেয়ে! চাওয়া হয় টাকাও?

শনিবার সকালে ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সঞ্জয়ের। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কেন হঠাৎ আত্মহত্যা করলেন, সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৬:৫৪
Share:

সেই পোস্টার। (ইনসেটে) সঞ্জয় দাস। ছবি: সংগৃহীত।

বিধানসভা নির্বাচনের পরে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় পড়েছিল পোস্টার। সেখানে ‘বেআইনি ভাবে দখল করা’ জমি ফেরত চাওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (স্বাস্থ্য এবং ক্রীড়া) সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে স্থানীয় সূত্রে সে খবরই প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের ধারণা, তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত সঞ্জয় আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতা আবার আঙুল তুলেছেন তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপি-তে যোগদানকারীদের দিকে। তাঁর দাবি, সঞ্জয়ের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকাও দাবি করেছিলেন প্রাক্তন ওই তৃণমূলকর্মীরা।

Advertisement

শনিবার সকালে ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সঞ্জয়ের। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কেন হঠাৎ আত্মহত্যা করলেন, সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় তৃণমূলকর্মী থেকে এলাকার মানুষজনের সূত্রে বেশ কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে সে সব ঘটনা হয়েছে, তার সঙ্গে সঞ্জয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অবসাদে ভুগছিলেন সঞ্জয়।

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কাউন্সিলর দেবরাজের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবেই পরিচিত। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকে বিধাননগর এবং রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং দেবরাজ ‘ঘনিষ্ঠ’দের ধরপাকড় শুরু হয়। গ্রেফতার হন সুজিতও। দেবরাজ নিজেও রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। দক্ষিণ দমদম এলাকার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, সঞ্জয়েরও গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সে কারণে সম্ভবত চাপে ছিলেন তিনি, মনে করছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

Advertisement

স্থানীয় তৃণমূলকর্মীদের সূত্রে আরও একটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পরে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় কিছু পোস্টার পড়েছিল। সেখানে তাঁর উদ্দেশে ‘বেআইনি ভাবে দখল করা’ জমি ফেরত দিতে বলা হয়। সে জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ওই পোস্টারে লেখা হয়, মাঝরাতে লোক পাঠিয়ে যাঁদের অফিসে ডেকে এনে ভয় দেখানো হয়েছে, তাঁদের জমি অবিলম্বে ফেরত দেওয়া হোক। সূত্রের খবর, ঘটনাটি পুলিশকেও সেই সময় জানানো হয়েছিল।

দমদম এলাকার কয়েক জন তৃণমূলকর্মীর অভিযোগ, সঞ্জয়ের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পুরসভার বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বকলমে সেগুলি সঞ্জয়ই চালাতেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দেবরাজের ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়ার কারণে সেই সুযোগ নিতেন তিনি। স্থানীয় তৃণমূলকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সঞ্জয়ের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই বিষয়গুলি এ বার প্রকাশ্যে আসতে পারে। সে সব নিয়ে অবসাদও তৈরি হয়েছিল সঞ্জয়ের মনে। যদিও তৃণমূলের অন্য একটি অংশ এই দাবি মানতে নারাজ।

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্যের অভিযোগের তির সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদান করা স্থানীয় কিছু কর্মীর দিকে। তিনি বলেন, ‘‘শুনেছি সঞ্জয়ের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল কয়েক দিন আগে।’’ কারা চেয়েছিলেন? প্রশ্নের জবাবে কিরণ দাবি করেন, ‘‘ওঁরা বিজেপির পুরনো কর্মী নন। ৪ তারিখ ফলঘোষণার দিন বেলা ১২টার পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হওয়া লোকজন (করেছেন)।’’

শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকে সঞ্জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নাগেরবাজারের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, অদিতি-দেবরাজদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এলাকায় যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’ ছিলেন সঞ্জয়। সম্প্রতি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ইডি নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে। কিছু দিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। এ ছাড়া, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়কে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে ইডি। সুজিতের সঙ্গেও সঞ্জয়ের যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement