West Bengal assembly Election 2026

সিপিএমের সঙ্গে জোট নয়, একা লড়বে কংগ্রেস! প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে সিদ্ধান্ত খড়্গে-রাহুলদের

২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল। ২০২১ সালেও সিপিএম-কংগ্রেস একসঙ্গে লড়েছিল। কিন্তু কেউ কোনও আসনই পায়নি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৯
Share:

(বাঁ দিকে) মল্লিকার্জুন খড়্গে, রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে একক ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেছে এআইসিসি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Advertisement

নয়াদিল্লির ১০, রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি খড়্গে ছাড়াও প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এবং সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। রাজ্যের কয়েক জন নেতা ভার্চুয়ালি ওই বৈঠকে যোগ দেন বলেও জানা গিয়েছে।

বৈঠকে হাজির বেশির ভাগ নেতাই কংগ্রেসের একক ভাবে লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এআইসিসি সূত্রে খবর, বৈঠকে অধীর বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট কেন প্রয়োজনীয় সেই বিষয়টি তুলে ধরেন। ২০১৬ সালে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল। ২০২১ সালে মেরুকরণের ভোটে বামফ্রন্ট কংগ্রেস উভয় দল শূন্য হয়ে গেলেও, সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস জিতেছিল বামেদের সমর্থন নিয়েই।

Advertisement

বৈঠক শেষে গুলাম মীর জানান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, “সকলের সঙ্গে আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে একক ভাবেই ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি শুরু হবে।” তিনি আরও বলেন, ‘‘অতীতে জোট রাজনীতির কারণে রাজ্যে কংগ্রেসকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।’’ তাঁর দাবি, বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়াই করার ফলে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বার সেই পরিস্থিতি বদলাতেই একক লড়াইয়ের পথে হাঁটছে দল। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলে অধীরের মন্তব্য, ‘‘এআইসিসি যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নিতে হবে।’’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট একত্রে জোট করে লড়াই করেছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে কংগ্রেস একটিও আসনে জয় পায়নি। বামফ্রন্ট শূন্য হয়ে গেলেও, ভাঙড়ে একমাত্র জিতেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। সেই ফলাফল রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এ বার তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি— উভয়ের বিরুদ্ধেই শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চায় দল। জেলা স্তরে সংগঠন মজবুত করা, নতুন মুখ সামনে আনা এবং কর্মীদের মনোবল ফেরানোই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের এই একক লড়াই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সে দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement