‘গাফিলতি’ দেখলেন বাংলাদেশি কূটনীতিকও

স্নায়ুরোগ নিয়ে ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন শীর্ষ আমলা। ভর্তি হওয়ার এক মাস পরে ওই হাসপাতালেই মৃত্যুর সঙ্গে কার্যত পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০২:৫৩
Share:

স্নায়ুরোগ নিয়ে ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন শীর্ষ আমলা। ভর্তি হওয়ার এক মাস পরে ওই হাসপাতালেই মৃত্যুর সঙ্গে কার্যত পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। যার জন্য তাঁর পরিবারের সদস্যেরা দায়ী করছেন হাসপাতালের গাফিলতিকেই! বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ভাবে প্রতিবাদের জন্য প্রস্তুত ওই প্রাক্তন বাংলাদেশি আমলার পরিজনেরা।

Advertisement

গত ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ আমলা এবং বরিশালের প্রাক্তন গভর্নর নুর আল আহাদ স্নায়ু সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর ছেলে জকি আহাদ কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার। অসুস্থতা বেশি থাকায় তাঁকে আইসিইউ-এ রাখা হয়। দিন দশেক পরে ওই হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, আইসিইউ-এ রাখার প্রয়োজন নেই। তবে খুব অল্প পরিমাণে একেবারে মলমের মতো নরম ভাত খেতে হবে।

নুরের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের এই নির্দেশ সত্ত্বেও দিন দুই বাদে ওই রোগীকে এক বাটি ভাত এবং সব্জি দেওয়া ডাল খাওয়ানো হয়। তার পরেই তাঁর বমি শুরু হয়, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফের আইসিইউ-এ স্থানান্তরিত করতে হবে ওই বৃদ্ধকে। এর পরে চিকিৎসকেরা জানান যে নুরের নিউমোনিয়া হয়েছে। এ-ও জানানো হয় যে পিইটি স্ক্যান করার প্রয়োজন রয়েছে।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছে, পিইটি স্ক্যান করার সময়ে নুরের পুত্রবধূকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগী কোথায় না দেখিয়ে কিছু কাগজপত্রে সইসাবুদ করান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা ধরে স্ক্যান করার পরে নুরকে ফের বেডে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি নুরের চিকিৎসা নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড বসে। সেখানে জকি ও তাঁর ভাইকেও ডাকা হয়। বৈঠকের পরে নুরের দায়িত্বে থাকা ডাক্তারদের বদল করা হয়। বুধবার পর্যন্ত নুর ওই হাসপাতালেই রয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা বিলও ধরানো হয়েছে। তার কিছুটা মিটিয়েছে নুরের পরিবার। একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, অর্থের অভাবে বিল মেটানো হচ্ছে না এমনটা নয়। কেন এমন হল তার বিচারের জন্যই টাকা মেটানো হয়নি।

এ নিয়ে জকি বলেন, ‘‘কোথা থেকে খবর পেলেন? বাবা এখনও হাসপাতালে। কতটা উন্নতি হয়েছে, বলা সম্ভব নয়।’’ এ ব্যাপারে হাসপাতালের সিইও রানা দাশগুপ্ত রাতে জানান, নুর আহাদ একাধিক সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসার বিস্তারিত বিবরণও দেন তিনি। অ্যাপোলো জানিয়েছে, এখন রোজ দু’বেলা মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর শারীরিক অবস্থা জানাচ্ছে। বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে টেলি-কনফারেন্সিংয়ে পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রোগীর দেখভালের ক্ষেত্রে যে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement