Bardhaman Municipality

পুর-ব্যর্থতায় সমর্থন হারাচ্ছে দল, অভিযোগ

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, বর্ধমান পুরসভার সর্বস্তরের ব্যর্থতার জন্য নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল পরিষেবায় পুরসভা চরম ব্যর্থ। পুরসভায় ‘লুটের রাজত্ব’ চলছে বলে জানানো হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২১
Share:

বর্ধমান পুরসভা। — ফাইল চিত্র।

পুরসভার সার্বিক ব্যর্থতার কারণে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় নাগরিকদের সমর্থন হারাতে চলেছে তৃণমূল, এই মর্মে ১৫ জনের সই-সম্বলিত চিঠি রেজিস্ট্রি করে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠির প্রতি ছত্রে বর্তমান পুরপ্রধান পরেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পুরসভাকে সামনে রেখে পুরপ্রধানের ‘আয় ও সম্পত্তি’ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে। যদিও বিধায়ক (বর্ধমান দক্ষিণ) খোকন দাস, শহর সভাপতি তন্ময় সিংহরা শহরের উন্নয়নের পক্ষেই মন্তব্য করেছেন। বিরোধীদের দাবি, উন্নয়নের নামে সবই ভাঁওতা।

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, বর্ধমান পুরসভার সর্বস্তরের ব্যর্থতার জন্য নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল পরিষেবায় পুরসভা চরম ব্যর্থ। পুরসভায় ‘লুটের রাজত্ব’ চলছে বলে জানানো হয়েছে। ৮৫ বছরের পুরপ্রধানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘তিন বছর আগে কী সম্পত্তি ছিল, আজ কী হয়েছে, তা তদন্ত করলেই জানা যাবে’। পুরসভার বিরুদ্ধে বহুতল আবাসনের নকশা পাশ করা নিয়ে দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। একটি আবাসন প্রকল্পের জন্য প্রাপ্য ১১ কোটি টাকা পুরসভার দফতরে জমা না করে অর্ধেক টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল দাবি করে জবাব চাওয়া হয়েছে পুরসভার কাছে। পুকুর ভরাট আর বেআইনি নির্মাণে বর্ধমান পুরসভা ‘প্রথম স্থান’ পেয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

চিঠির একটি অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, অনলাইন-নকশা চালু হলেও বর্ধমান পুরসভায় পিছনের তারিখ দিয়ে ও প্রশাসকের সই জাল করে ২০২৪ সালের নকশা বার করা হচ্ছে। এতে ‘পুরপ্রধান, তাঁর পরামর্শদাতা, অলিখিত বাদশা আর দু’চার জন কর্মী জড়িয়ে রয়েছে’ বলেও দাবি করা হয়েছে। বর্তমান পুরবোর্ড নাগরিকদের স্বার্থে কোনও উন্নয়ন করেনি, জঘন্য রাস্তা ও টোটোর অত্যাচারে মানুষ দিশেহারা বলেও জানানো হয়েছে। পুরপ্রধানের এক নিকটাত্মীয়ের নামেও অভিযোগ করা হয়েছে। মাঘ উৎসব, পুরসভার চেকপোস্টের টাকার কোনও হিসাব নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শেষ অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে জেতা খুব কঠিন। পুরসভার কাজের বহর দেখে ব্যবস্থা না নিলে বর্ধমান ফিরে পাওয়া অসম্ভব।

পুরপ্রধানের দাবি, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ছত্রে ছত্রে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। বর্ধমান শহরে নিরন্তন উন্নয়ন চলছে। গত লোকসভায় দল ভাল ফল করেছিল, বিধানসভাতেও করবে।” তৃণমূলের বর্ধমান শহরের সভাপতি তন্ময় সিংহ রায় বলেন, “এ সব বিরোধীদের কুৎসা।” বিধায়ক খোকন দাস বলেন, “শহরজুড়ে উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষ আরও বেশি করে তৃণমূলকে ভোট দেবেন।”

কংগ্রেসের নেতা গৌরব সমাদ্দারের কটাক্ষ, “পুরসভার ক্ষমতা নিয়ে তৃণমূলের দ্বন্দ্বের ফল ওই ওই চিঠি। পুরসভার মানুষ তো কোনও পরিষেবাই পান না।” বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের টিপ্পনি, “পুরপ্রধান ক্ষমতাধর হয়ে উঠছেন, সে কারণেই দলের একটি অংশ ওই চিঠি দিয়েছেন।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন