অবশেষে ঘুম ভাঙল পুরসভা।
খোলা জায়গায় শৌচকর্ম বন্ধ করার জন্য পুরকর্তা খোকন দাস ও মহকুমাশাসক (বর্ধমান উত্তর) মুফতি শামিম সওকত সূর্য ওঠার আগেই ছুটলেন শহরের মিরছোবা এলাকায়।
কিছুদিন আগেই প্রশাসনের রিপোর্টে সামনে আসে, গ্রামীণ এলাকার তুলনায় জেলার একাধিক পুরসভায় বহু শৌচাগার তৈরি বাকি। এরপরেই নড়ে বসে প্রশাসন। শুক্রবার ডিভিসি খালের ধারে ও দামোদরের বাঁধে শৌচকর্মে হানা দেন তাঁরা। গাড়ি থেকে কর্তাদের নামতে দেখেই দৌড় মারেন গাড়ু হাতে স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের কর্তারাও ভোরের আবছায়ায় দৌড়ে ১৪ জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই দু-তিন জন বলে ফেলেন, “আমাদের বাড়িতে শৌচাগার রয়েছে। কিন্তু আমরা অভ্যাসের বসে মাঠে ছুটি।” তবে বেশির ভাগ জনই জানান, তাঁদের বাড়িতে এখনও শৌচাগার তৈরি হয়নি। ওই কর্তারা তাঁদের সাফ জানান, খোলা জায়গাতে শৌচকর্ম করলে জরিমানা করা হবে। তারপরেও অভ্যাস না বদলালে শ্রীঘরে ঠাঁই হবে।
বাঁধের ধারে কমিউনিটি শৌচাগার থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তা দেখে মহকুমাশাসক বলেন, “ওই শৌচাগার খোলার জন্য বলা হয়েছে।”
বর্ধমান শহরে সাড়ে ৬ হাজার বাড়িতে শৌচাগার নেই। জেলাশাসক সৌমিত্র মোহনের চাপে পুরপ্রধান স্বরূপ দত্ত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ‘নির্মল শহর’ গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এ দিন ভোরে মহকুমাশাসকের চোখে যে দৃশ্য ধরা পড়েছে, তাতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বর্ধমানকে ‘নির্মল’ গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেই কর্তাদের একাংশের দাবি। এ দিন ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ পুরসভার সামনে চলে যান মহকুমাশাসক। কিন্তু সেখানে পুরপ্রধান বা পুরসভার অন্য কাউন্সিলরদের তিনি দেখতে পাননি। কিছুক্ষণ পর খোকনবাবু আসেন। পুরপ্রধান জানান, শরীর ভাল নয়, সে জন্য তিনি যেতে পারছেন না।
মহকুমাশাসকের কথায়, “শৌচাগার তৈরি হলেও তা ব্যবহারে মানুষের তাগিদ নেই। পুরসভারও কোনও উদ্যোগ নেই। আমি নিয়মিত ভাবে পাড়ায় পাড়ায় যাব। কাউন্সিলরদের নিয়েও বৈঠক করব।”