তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষ। নিজস্ব চিত্র
সরকার টাকা দিয়েছিল। ক্লাবের পাওয়া সেই টাকার ভাগ চাইছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। এই অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির কলিগ্রামের বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, ওই তৃণমূল নেতার ‘দুর্নীতি’র কথাও চিঠিতে উল্লেখ করলেন তাঁরা। ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ দফতর তাঁদের এলাকার এই ক্লাবটিকে ৪ লক্ষ টাকা দেয়। তার থেকে ১ লক্ষ টাকা দিলে ‘ঝামেলা’ মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে দাবি করেন এলাকার তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষ। তবে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে পুলিশের চাপ বাড়ায় ওই তৃণমূল নেতা টাকা নিতে না পারলেও ক্লাবের খাতা ও ব্যাঙ্কের বই নিয়ে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও ওই তৃণমূল নেতা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দেওয়ানদিঘি থানার কলিগ্রামে রয়েছে কালিতলা-হাটতলা ‘বিদ্যুৎ সঙ্ঘ’ ক্লাবের সদস্যদের লেখা চিঠিতে তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষের 'অত্যাচার’ ও ‘দৌরাত্ম্য’-এর কথা সবিস্তার উল্লেখ করেছে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দীনবন্ধু ঘোষের জন্যেই ক্লাবের কিছু সদস্য তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তার জন্যে ওই নেতা সরকারি অনুদানের টাকার ভাগ চেয়ে এখন ‘অত্যাচার’ শুরু করেছেন। অনুদানের টাকা থেকে তাঁকে ১ লক্ষ টাকা ‘কাটমানি’ দিলে ওই তৃণমূল নেতা সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে দেবেন বলেও কথা দিয়েছেন। একই অভিযোগ সংক্রান্ত চিঠি শুক্রবার জেলা প্রশাসনকেও ই-মেলের মাধ্যমে পাঠান ক্লাবের সদস্যরা। তার পরেই দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ দ্রুত কলিগ্রামে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে দেয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষ বলেন, “আমি এলাকার প্রতিবাদের মুখ। এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধ করেছি। তাতে যাদের ঘা লেগেছে, তারাই আমার বদনাম করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’’ বর্ধমান ১ ব্লক তৃণমূলের সভানেত্রী কাকলি তা গুপ্ত জানান ,“আমরা দলীয় স্তরে দীনবন্ধুর উপর নজর রাখছি। পুলিশও বিষয়টি দেখছে।’’ বিজেপি-র প্রাক্তন জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর কথা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা যে শোনেন না, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে।’’