—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোট এলেই ভাগীরথীর উপরে কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি শোনা যায় বার বার। কিন্তু এ বার প্রচারে সেতু তৈরির আশ্বাস নয়, বরং কেন সেতুর কাজ এখনও শুরু হল না, সেই প্রশ্নকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
বিজেপি নিজস্ব কর্মসূচিতে কালনা বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য যে চার্জশিট প্রকাশ করেছে, তার প্রথম সারিতেই রয়েছে সেতুর বিষয়টি। অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের প্রতিশ্রুতি ছিল কালনা-শান্তিপুর সেতু তৈরি। কিন্তু আজও সেই কাজ শুরু না হওয়ায় ভোগান্তি কমেনি মানুষের। বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সুদীপ্ত রায় বলেন, “সেতুর স্বপ্ন দেখিয়ে বছরের পর বছর ভোট প্রচার করেছে শাসকদল। কার্যত মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে।”
সিপিএমও ভোটের মুখে সেতুর প্রশ্নকে তুলে ধরেছে দেওয়াল লিখনে। শহরের বিভিন্ন দেওয়ালে মোটা হরফে লেখা হয়েছে— “গঙ্গা বক্ষে ব্রিজ গড়ার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? তৃণমূল জবাব দাও।” দলের এক নেতা জানান, আট বছর আগে সেতু তৈরির কথা ঘোষণা হয়েছিল। কাজ শুরু হয়নি, প্রশাসনিক তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে যে ভুল বোঝানো হয়েছে, তা প্রচারে তুলে ধরা হবে।
যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে কালনা এবং নদিয়া জেলার শান্তিপুরের মধ্যে সেতু তৈরির পরিকল্পনা হয়। প্রাথমিক ভাবে বরাদ্দ হয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে কালনায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সব ঠিক থাকলে ২০২২ সালের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ হবে। কিন্তু সেই কাজ এখনও শুরুই হল না। এমনকি দুই জেলায় জমি কেনার কাজও শেষ করতে পারেনি প্রশাসন।
কালনা ২ ব্লকের সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের বারাসত, হাঁসপুকুর, কুলিয়াদহ ও পূর্ব সাহাপুর মিলিয়ে মোট ৪৭.৭৩ একর জমি কেনার কথা। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চার মৌজায় ৯৮ শতাংশের বেশি জমি কেনা হয়ে গিয়েছে। কয়েক জন নতুন করে জমি দিতে আগ্রহ দেখালেও ২০২৪ সালের পরে নতুন জমি আর কেনা হয়নি। এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনও নির্দেশ নেই। তা এলে কাজ দ্রুত এগোবে।”
যদিও বিরোধীদের এই প্রচারকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল। কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের দাবি, “বিরোধীরা ভুল বোঝাচ্ছে। সেতু করার লক্ষ্য না থাকলে কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে জমি কিনবে সরকার? কেন মাটি পরীক্ষা করা হবে?” তাঁর বক্তব্য, “বড় কাজ বলে হয়তো দেরি হচ্ছে। সেতু তৈরি হবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে