বেড়েছে মিষ্টির দামও। নিজস্ব চিত্র।
রমজান শুরু হয়ে গিয়েছে। এ দিকে আবার এসে পড়েছে জামাইষষ্ঠী। জোড়া ফাঁসে তরতর করে বে়ড়ে গিয়েছে ফলের দাম। বাজার করতে গিয়ে তাই বৃহস্পতিবার চোখ কপালে উঠল ক্রেতাদের। একই পরিস্থিতি মাছ-সব্জির বাজারেও।
৭ জুন শুরু হয়েছে রমজান মাস। জামাইষষ্ঠী আজ, শুক্রবার। শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, লাফিয়ে বেড়েছে জাম, লিচু থেকে শশা, সব ফলের দাম। উখড়া, রানিগঞ্জ থেকে আসানসোল, জাম সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে একশো টাকা দরে। উখড়া বাজারে বুধবার পর্যন্ত লিচু ছিল ৮০ টাকা কেজি। বৃহস্পতিবার সেখানে লিচুর দেখাই মেলেনি। রানিগঞ্জে সাত দিনের তফাতে লিচুর দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে আসানসোলে লিচুর দর ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। হিমসাগর আম দর উখড়ায় ৫০ টাকা, রানিগঞ্জ ও আসানসোলে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। সিঙ্গাপুরি কলা কোথাযো ৩৫-৪০, কোথাও আবার বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ডজন দরে। আবার আসানসোল বড় বাজারে ৩০ টাকায় শশা, ৬০ টাকায় জাম পাওয়া যাচ্ছে।
উখড়ার ফল ব্যবসায়ী ভোলা সাউ জানান, যে বছর এই রমজানের মধ্যে জামাইষষ্ঠী পড়ে, এ ভাবেই দাম বেড়ে যায়। আবার এ সব মিটে গেলে এক লাফে দাম কমে যায়। আসানসোল কোর্ট বাজারের ফল বিক্রেতা গোপাল প্রসাদ, রাজীব চট্টোপাধ্যায়েরা দাবি করেন, পাইকারি বাজারে দর বাড়িয়ে দেন বড় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেন, ‘‘আমাদের লাভ বাড়ে না।’’ রানিগঞ্জের ফল ব্যবসায়ী অশোক কর আবার বলেন, ‘‘চাহিদা অনুযায়ী জোগান মেলে না। সেই কারণে এ ভাবে দর এ ভাবে বেড়ে যায়।’’
এক পরিস্থিতি সব্জি ও মাছের বাজারেও। নানা বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে পটল ২৫, ঝিঙে ১২-১৫, টমাটো ৫০, বেগুন ১৫ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপির দর ২৫ টাকার আশেপাশে। সপ্তাহখানেক আগে সবেরই দাম ছিল বেশ খানিকটা কম। একই রকম পরিস্থিতি মােছর বাজারেও। শিল্পাঞ্চলের নানা বাজারে বড় ইলিশ দু’হাজার টাকার আশপাশে, ছোট ন্যূনতম ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার। কই মাছের দর ৪০০ টাকা প্রতি কেজি, বড় কাতলা ৪০০ টাকার আশপাশের দর বিক্রি হয়েছে। শুধু শিল্পাঞ্চল নয়, গোটা জেলাতেই এমন পরিস্থিতি।
বাজার করে গিয়ে বিরক্ত অনেক ক্রেতাই। আসানসোল রেলপাড়ের আবু কনেন সাদাব (ছোট), রানিগঞ্জের জীবন মুখোপাধ্যায়, উখড়ার কালিয়া বাউরিদের বক্তব্য, ‘‘যে কোনও উৎসবে সুযোগ বুঝলেই ব্যবসায়ীরা এ ভাবেই জোগানের দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। প্রশাসন এ ব্যাপারে তৎপর না হলে সুরাহা মিলবে না।’’