এখানেই দুর্ঘটনা। নিজস্ব চিত্র
রবিবার ইসিএলের উদ্যোগে নির্মিত একটি জলাধারের দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু হল দু’জনের। এক নাবালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিউকেন্দা খোলামুখ খনি লাগোয়া ইস্টকেন্দা ভূঁইয়া পাড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার বেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম পবনকুমার ভূঁইয়া (৩১) ও প্রকাশ ভূঁইয়া (২০)।
কেন্দা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, তৃণমূলের দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, জলের সমস্যা মেটাতে খোলামুখ খনি কর্তৃপক্ষ ঠিকা সংস্থার মাধ্যমে জলাধারটি তৈরি করেছিলেন। কথা ছিল পাইপের মাধ্যমে জলাধারে নিয়মিত জল সরবরাহ হবে। সেই জল ব্যবহার করবেন ভূঁইয়া পাড়ার বাসিন্দারা। চার দিন আগে নির্মিত জলাধারে এ দিন জল পাঠানো হয়। জলাধারের এক দিকের দেওয়ালে কল বসানো আছে।
এ দিন ওই কলে স্নান করতে গিয়েছিলেন ভূঁইয়া পাড়ার তিন জন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই কল বসানো জলাধারের দেওয়ালটি ভেঙে পড়লে তাঁরা চাপা পড়ে যান। এলাকার বাসিন্দারা আহত তিন জনকে বাহাদুরপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পবনকুমারকে মৃত বলে জানানো হয়। সেখান থেকে প্রকাশ ও ১০ বছরের ভরত ভূঁইয়াকে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হচ্ছিল। পথেই প্রকাশের মৃত্যু হয়। ভরতকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ করার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, ইসিএল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ঠিকা সংস্থার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক। মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তাঁরা। দুর্ঘটনার পরে এলাকাবাসী খোলামুখ খনির কাজ বন্ধ করে দেন।
দুর্ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন জামুড়িয়ার বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল আর দুর্নীতি সমার্থক। ঠিকাদার নিজে তৃণমূলের শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ও স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এই কাজের বরাদ্দ টাকা ভাগ করে খেতে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করেছেন। ঠিকা সংস্থার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিতে দল ব্যবস্থা নেবে।’’ দেবাশিসের বক্তব্য, ‘‘এই সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা চাই ঘটনার তদন্ত হোক। কেউ দোষী হলে, তিনি যেই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে