ছেলে পলাতক, আটক পরিজনরা, রেল লাইনে মিলল দম্পতির দেহ

ছেলের কুকীর্তির জেরে পরিজনদের আটক করেছিল পুলিশ। পরে ছেড়েও দেয়। কিন্তু অভিযুক্তের বাবা-মাকে গঞ্জনা শুনতে হয়েছে দিনভর। অবশেষে গভীর রাতে বাড়ির পাশেই রেল লাইন থেকে মিলল পলাতক পাপ্পুর বাবা-মায়ের ছিন্নভিন্ন দেহ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০১৫ ১৫:০২
Share:

ছেলের কুকীর্তির জেরে পরিজনদের আটক করেছিল পুলিশ। পরে ছেড়েও দেয়। কিন্তু অভিযুক্তের বাবা-মাকে গঞ্জনা শুনতে হয়েছে দিনভর। অবশেষে গভীর রাতে বাড়ির পাশেই রেল লাইন থেকে মিলল পলাতক পাপ্পুর বাবা-মায়ের ছিন্নভিন্ন দেহ।

Advertisement

কাটোয়ার দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মানিক রায় ও অর্চনা রায় আত্মঘাতী হয়েছেন, প্রাথমিক অনুমান রেল পুলিশের। অপমানিত হয়েই আত্মহত্যা, বলছেন প্রতিবেশীরা।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। কাটোয়াতেই মদের আড্ডায় বচসায় জড়িয়ে পড়ে অনিল বিশ্বাস, কেঁদু ঘোষ ও পাপ্পু রায়। কেঁদু অনিলকে গুলি করে পালায়। পালায় মানিকও।

Advertisement

গুরুতর জখম অবস্থায় বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরিয়ে অবশেষে অনিলকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হতে হতে অনিল এখন কোমায়। পুলিশ সহজেই জেনে যায়, মদের আড্ডায় বৃহস্পতিবার ক’জন ছিল। গ্রেফতার করা হয় কেঁদু ঘোষকে। আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। কিন্তু পাপ্পু ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তার খোঁজ না পেয়ে পুলিশ পাপ্পুর তিন পরিজনকে থানায় তুলে নিয়ে যায়। রাতভর আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সকালে ছেড়ে দেয়। পাপ্পুর খোঁজ অবশ্য তাতেও মেলেনি। স্থানীয় সূত্রের খবর, থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে পাপ্পুর বাবা মানিক এবং মা অর্চনাকে গঞ্জনা দেয় আগের রাতে আটক হওয়া তিন পরিজন। মানিক-অর্চনার ছেলের জন্যই তাঁদের পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে হচ্চে বলে তাঁরা বার বার অভিযোগ করতে থাকেন বলে জানা গিয়েছে।

অপমান বোধ হয় সইতে পারেননি রায় দম্পতি। শুক্রবার রাত গভীর হতেই বাড়ির অদূরে রেল লাইনে মানিক ও অর্চনার খণ্ডিত দেহ মেলে। রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আত্মহত্যা না অন্য কিছু, নিশ্চিত হওয়া যাবে পোস্টমর্টেমের পরেই।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement