পূর্বতন সিপিএম পরিচালিত রানিগঞ্জ পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অতিরিক্ত জেলাশাসকের (এলআর) কাছে দরবার করলেন আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। জেলা ভূমি সংস্কার দফতর ১৩ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে বলে জানান তিনি।
জিতেন্দ্রবাবু জানান, ২০১৪ সালে রানিগঞ্জ পুরসভার প্রায় দেড় একর জমি নিজেদের দাবি করে বিএলএলআর অফিসে চিঠি লেখে একটি পরিবার। তৎকালীন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক পুরসভার কাছে তাদের বক্তব্য জানতে চান। অভিযোগ, সেই সময়ে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, ভুল করে পুরসভার নামে নথিভু্ক্ত করা হয়েছে ওই জমি। আসলে সেটির মালিক ওই পরিবারের লোকজনই। এর ফলে বিএলএলআর দফতর জমিটি ওই পরিবারের নামে নথিভুক্ত করে।
মেয়র বলেন, ‘‘আমরা ক্ষমতায় এসেই খতিয়ে দেখতে গিয়ে নথি-সহ প্রমাণ পাই, ওই জমির মালিক পুরসভা। এর পরে বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিই, জমিটি ফিরিয়ে নেব। সেই অনুযায়ী জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে বিহিত চেয়ে আবেদন করি। তিনি ১৩ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন।’’ জিতেন্দ্রবাবুর দাবি, সে দিন তাঁরা নথি দিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করবেন। তার পরে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গড়ে তদন্ত করা হবে। তাতে যদি কারও বিরুদ্ধে এই কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রানিগঞ্জ পুরসভার পূর্বতন চেয়ারম্যান সিপিএমের অনুপ মিত্রের বক্তব্য, ‘‘যত দূর মনে আছে, বিএলএলআরও জমিটি সর্ম্পকে জানতে চাইলে আমরা জানিয়েছিলাম, ওই জমির কোনও নথি আমাদের কাছে নেই। এর বেশি আমরা কোনও মন্তব্য করিনি।’’ বিষয়টি নিয়ে আবার তৃণমূল পরিচালিত পুরনিগমের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন সিপিএম সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরী। তাঁর কথায়, ‘‘জিতেন্দ্রবাবু ঠিক পদক্ষেপ করেছেন। আমিও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট নানা মহলে চিঠি দিয়ে ওই জমির মালিক পুরসভা বলে জানিয়েছি। জমি ফেরানোর আর্জিও জানিয়েছি।’’
মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক তন্ময় রায় বলেন, ‘‘একটি আবেদন জমা পড়েছে। ১৩ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলাশাসকের (এলআর) দফতরে শুনানি হবে।’’