পরোপকারী সাহিনাকে এ ভাবে খুন করল কে, ধন্দে প্রতিবেশীরা

প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যেত না তাঁকে। পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়া, পাড়ার ছোট-ছোট পড়ুয়াদের পড়াশোনা করানো, দানধ্যান— এ সব নিয়েই থাকতেন কেতুগ্রামের কাঁটাড়ি গ্রামের সাহিনা খাতুন। এমন মেয়েকে কে এ ভাবে গুলি করে খুন করল, সে প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে উঠছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অগস্ট ২০১৫ ০১:২৬
Share:

কাঁটাড়ি গ্রামে এই বাড়ির দরজার কাছেই গুলিবিদ্ধ দেহ মেলে সাহিনার। ইনসেটে, সাহিনা খাতুন। ছবি: অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যেত না তাঁকে। পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়া, পাড়ার ছোট-ছোট পড়ুয়াদের পড়াশোনা করানো, দানধ্যান— এ সব নিয়েই থাকতেন কেতুগ্রামের কাঁটাড়ি গ্রামের সাহিনা খাতুন। এমন মেয়েকে কে এ ভাবে গুলি করে খুন করল, সে প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে উঠছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে মেলে সাহিনার পরিত্যক্ত দেহ। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, পরিচিত কোনও যুবক তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় খুন করা হয় তাঁকে। পিঠে একটি ও মাথায় দু’টি গুলি লাগে বছর কুড়ির মেয়েটির। বোলপুর হাসপাতালে ময়না-তদন্তের পরে রাত ৮টা নাগাদ দেহ নিয়ে গ্রামে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে কাঁটাড়ি হাই মাদ্রাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন সাহিনা। কিন্তু ভূগোলে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তার পরে আর পড়শোনা করেননি। পড়শি ও বাড়ির লোকজন জানান, নিয়মতি পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়া ছিল সাহিনার অভ্যাস। প্রতি দিন ভোরে উঠে পড়তেন। পড়শি মহিলাদেরও নমাজ পড়াতেন। পাড়ার বেশ কয়েক জন মহিলার কথায়, ‘‘সাহিনা ধর্মভীরু ছিল। মাথায় হাফেজ ছিল তার সব সময়ের সঙ্গী। রোজার সময়ে আমরা ওর সঙ্গে নমাজ পড়তে যেতাম।’’

Advertisement

বিনা পয়সায় গ্রামের কয়েক জন ছাত্রীকে পড়াতেন সাহিনা। আরবি ছাড়াও দেখিয়ে দিতেন বাংলা, ইতিহাস। সেই ছাত্রীদের মধ্যে তুহিনা খাতুন, বৈশাখি খাতুনেরা বলে, ‘‘আমরা বিকেলের দিকে দিদির কাছে পড়তে যেতাম। ভাল পড়াত। দিদির জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।’’ নানা প্রয়োজনে সাহিনা এলাকার মানুষজনের পাশে দাঁড়াতেন বলেও জানালেন প্রতিবেশীরা। সাবিনা বিবি, টুকুন বিবি, সালমা বেগমদের কথায়, ‘‘সাধ্য মতো দানধ্যান করত ও। কেউ চাইলে হাতের কাছে কিছু না পেলে নিজের জামাকাপড়ই দিয়ে দিত। এত ভাল মেয়েরও যে কোনও শত্রু থাকতে পারে, আমরা তো ভাবতেই পারছি না।’’

সাহিনার সঙ্গে কারও সম্পর্ক রয়েছে, তেমন কোনও কথাও তাঁদের কারও জানা ছিল না বলে জানান প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, সাহিনা বেশির ভাগ সময়ে বাড়িতেই থাকতেন। প্রয়োজন ছাড়া সে ভাবে তাঁকে বাইরে বেরোতে দেখা যেত না। সাহিনার দিদি চায়না বিবি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘বুধবার সন্ধ্যাবেলাতেও অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল। ওর বিয়ে দেওয়ার জন্যও তৈরি হচ্ছিলাম আমরা। কারও সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলেও জেনেছিলাম। তার মধ্যেই এমন কাণ্ড ঘটে গেল!’’

এমন মেয়েকে কে কী কারণে খুন করল, সে নিয়েই এখন ধন্দে প্রতিবেশীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement