বাবাকে খুনের নালিশ, ধৃত

ছেলের কাছ থেকে ৫০ টাকা চেয়েছিলেন প্রৌঢ়। সে নিয়ে বচসা বাধে বাবা-ছেলের মধ্যে। সেই সময়েই ছেলে সামনে পড়ে থাকা লোহার শাবল তুলে মাথায় মারায় বাবা জংলা দাসের (৫২) মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৫ ০১:২৪
Share:

ছেলের কাছ থেকে ৫০ টাকা চেয়েছিলেন প্রৌঢ়। সে নিয়ে বচসা বাধে বাবা-ছেলের মধ্যে। সেই সময়েই ছেলে সামনে পড়ে থাকা লোহার শাবল তুলে মাথায় মারায় বাবা জংলা দাসের (৫২) মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি গ্রামের দাস পাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাবাকে খুনে অভিযুক্ত ছেলে শচীন দাসকে আটকে কেতুগ্রাম থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মঙ্গলবার তাঁকে কাটোয়া এসিজেএম আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ দিন মৃতদেহের ময়না-তদন্ত হয় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জংলাবাবু ও তাঁর বড় ছেলে শচীন দিন মজুরের কাজ করেন। তবে বিভিন্ন পুজো-পার্বণে ঢাকও বাজান। এ বারও পঞ্চমীতে কলকাতায় এক সঙ্গে ঢাক বাজাতে যান বাবা-ছেলে। পুজোর উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া বেশ কয়েক হাজার টাকা ছেলের কাছে রেখেছিলেন জংলাবাবু।

Advertisement

রবিবার বিকেলে তাঁরা গ্রামে ফেরেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রের খবর, সে দিনই জংলাবাবু ছেলের কাছ থেকে হাতখরচের জন্য ৫০ টাকা চান। কিন্তু ছেলে তা দিতে রাজি হয়নি। সোমবার সন্ধ্যায় ফের ছেলের কাছে ৫০ টাকা চান তিনি। কিন্তু টাকা দিতে নিমরাজি হওয়ায় শচীনের মা পূর্ণিমাদেবী ছেলের উপরে রাগারাগি করেন। জংলাবাবুও জানিয়ে দেন, টাকা না দিলে আর কোথাও ছেলেকে ঢাক বাজাতে নিয়ে যাবেন না তিনি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাবা-ছেলের মধ্যে বচসা হচ্ছে শুনে কয়েক জন পড়শি বেরিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তখনই দেখা যায়, শাবল দিয়ে জংলাবাবুর মাথায় এলোপাথাড়ি ভাবে মারছে শচীন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শচীন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাটোয়া হাসপাতালে বসে পূর্ণিমাদেবী বলেন, “মাত্র ৫০ টাকার জন্য ছেলে এ ভাবে বাবাকে খুন করল, ভাবতেই পারছি না!”

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement