শিক্ষাশ্রীর অ্যাকাউন্ট তৈরি ঢিমেতালে, বিপাকে পড়ুয়ারা

শিক্ষাশ্রী প্রকল্পে বর্ধমান জেলার স্কুলগুলি এখনও ছাত্রছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শেষ করে উঠতে পারেনি। ফলে, পুজোর আগে এই জেলায় এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত সব ছাত্রছাত্রী সরকারি সুবিধা পাবে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সমস্যা মেটাতে বিভিন্ন স্তরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “এই প্রকল্পটিতে পুজোর আগেই যাতে বর্ধমান জেলা ভাল জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে তার জন্য চেষ্টা শুরু হয়েছে।

Advertisement

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:১৬
Share:

শিক্ষাশ্রী প্রকল্পে বর্ধমান জেলার স্কুলগুলি এখনও ছাত্রছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শেষ করে উঠতে পারেনি। ফলে, পুজোর আগে এই জেলায় এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত সব ছাত্রছাত্রী সরকারি সুবিধা পাবে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সমস্যা মেটাতে বিভিন্ন স্তরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “এই প্রকল্পটিতে পুজোর আগেই যাতে বর্ধমান জেলা ভাল জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে তার জন্য চেষ্টা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা, মহকুমা এবং ব্লক পর্যায়ে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি, স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। তাতে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।” জেলা সভাপতি দেবু টুডু জানান, প্রকল্পটি সফল করার জন্য ব্লক ও জেলা পর্যায়ে বৈঠক করা হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থেকে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, কর্মী সংখ্যা কম থাকায় জন্যই এই সমস্যা।

চলতি বছরের জুলাই মাসে রাজ্য সরকার শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের কথা সরকারি ভাবে ঘোষণা করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তপশিলি জাতি এবং উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঠিক হয়, তপশিলি জাতির অর্ন্তভূক্ত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা মাসিক ৫০০ টাকা, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা মাসিক ৬৫০ টাকা, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা মাসিক ৭০০ টাকা ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের মাসিক ৮০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবে। তপশিলি উপজাতির ক্ষেত্রে পঞ্চম থেকে অষ্টম পর্যন্ত যে কোনও শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরাই মাসিক ৮০০ টাকা করে ভাতা পাবে।

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের নিকটবর্তী ব্যাঙ্কে (রাষ্ট্রায়ত্ত ও অথবা বেসরকারি) ছাত্রছাত্রীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে সহযোগিতা করবেন। এর পর ছাত্রছাত্রীরা দু’পাতার একটি ফর্ম পূরণ করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেবেন। প্রধান শিক্ষক সেটি অনুমোদন করে ব্লক দফতরে পাঠাবেন। সংশ্লিষ্ট ব্লক দফতর সেই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে পাঠিয়ে দেবে জেলা প্রশাসনের কাছে। এর পর জেলা থেকে মাসিক ভাতার টাকা প্রতি মাসে সরাসরি পৌঁছে যাবে ছাত্রছাত্রীদের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

জেলা শিক্ষা দফতরের এক কর্তা বলেন, বর্ধমান জেলায় মোট ৮২০টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এই স্কুলগুলিতে তপশিলি জাতি-উপজাতি ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা হল ১ লক্ষ ৭৯ হাজার। যার মধ্যে তপশিলি জাতি ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার। গত ৩১ অগস্ট জেলা প্রশাসনের হাতে আসা তালিকা অনুযায়ী শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের জন্য ৫৬০০০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ৬০১৩ জন ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় নথি জেলা প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছেছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বর্ধমান, গুসকরা, কাটোয়া, মেমারি, দাঁইহাট, কুলটি পুর এলাকার স্কুলগুলি তখনও সরকারি এই প্রকল্পটি শুরুই করতে পারেনি। তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ৩১ অগস্টের ওই তালিকা হাতে আসার পরে জেলা জুড়ে শিক্ষাশ্রীর কাজে কিছুটা গতি এলেও সেটা এখনও সন্তোষজনক নয়।

শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, দুর্গাপুর পুরসভা এলাকার স্কুলগুলি সরকারি এই প্রকল্পে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। দুর্গাপুরের ৪৪৭০ জন তফসিলি জাতি ও উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৩৭০০ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শেষ হয়েছে। আসানসোল এলাকায় ৪৪০০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১৮০০ জন, রায়নায় ৫৮০০ জনের মধ্যে ৪০০০, মঙ্গলকোটে ৬৫৬৭ জনের মধ্যে ১০০০, জামালপুরে ১১০০০ জনের মধ্যে ২৫০০, কালনা১ ব্লকে ৫১৬১ জনের মধ্যে ২৩৯৪, কালনা ২ ব্লকে ৪৮০২ জনের মধ্যে ৩২৯৪, মন্তেশরে ৫৭০১ জনের মধ্যে ২০০০, পূর্বস্থলী ১ ব্লকে ৪৪৯০ জনের মধ্যে ১৯১৯, পুর্বস্থলী ২ ব্লকে ৫৪৭১ জনের মধ্যে ১৮৬০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ শেষ হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটিতে গতি আনার জন্য মহকুমা এবং ব্লক পর্যায়ের বৈঠকে স্কুলগুলিকে কড়া বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কালনার মহকুমা শাসক সব্যসাচী ঘোষ ইতিমধ্যেই ৫ এবং ৯ সেপ্টেম্বর এই নিয়ে দু’টি বৈঠক করেন। মহকুমা শাসক বলেন, “এই ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজন হলে যে স্কুল গাফিলতি করবে তাদের বেতন স্থগিত রাখার জন্য জেলা প্রশাসনকে আবেদন জানানো হতে পারে।” তবে একই সঙ্গে মহকুমাশাসক জানান, স্কুলগুলিকে নিয়ে বৈঠকের পর পরিস্থিতির বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

জেলা শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কালনা শহরের মধ্যে সব থেকে বেশি ছাত্র রয়েছে মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখানে শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ৪০০ জন ছাত্র। স্কুল সুত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮৮ জন ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীমন্ত ঘোষ বলেন, “প্রত্যেকের নামে নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারণ ব্যাঙ্কগুলি এক সঙ্গে ২০টির বেশি ফর্ম দিতে চাইছে না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাঙ্কের আধিকারিক জানান, এমনিতেই জেলায় ব্যাঙ্কে কর্মী সংখ্যা কম। তার উপর এই ধরনের অ্যাকাউন্ট বেশি খুলতে গেলে দৈনন্দিন কাজকর্মের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া এই ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্ক কোনও বাণিজ্যিক সুবিধা পায় না। তবু সরকারি নির্দেশ মেনে যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ করার চেষ্টা চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement