Golpark Chaos

গোলপার্কে গন্ডগোলের দু’দিন পরেও মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু অধরাই! চলছে তল্লাশি, তাণ্ডবে গ্রেফতার আরও চার দুষ্কৃতী

রবিবার রাতের গন্ডগোলে রবীন্দ্র সরোবর থানায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর রুজু হয়েছে। ঘটনার রাতেই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার রাতে ধরা পড়েন আরও চার জন। কিন্তু সেই সোনা পাপ্পু এখনও অধরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
Share:

গোলপার্ক চত্বরে গুলি এবং বোমাবাজির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। — প্রতীকী চিত্র।

গোলপার্কে বোমাবাজি এবং গুলিকাণ্ডে আরও চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গন্ডগোলের ঘটনায় রবিবার রাত থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। সূত্রের খবর, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisement

গত রবিবার কলকাতায় রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার গোলপার্কে কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই গোলমালের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়ায় বার বার উঠে এসেছে সোনা পাপ্পুর দলবলের নাম। সোনা পাপ্পুর দলবলই এলাকায় এসে গন্ডগোল পাকাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। রবিবার রাতে গন্ডগোলের ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করলেও সেই সোনা পাপ্পু এখনও অধরাই। যদিও কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার সোমবারই দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, কাউকে ছাড়া হবে না।

বস্তুত, এর আগেও বিভিন্ন গোলমালের ঘটনায় সোনা পাপ্পুর নাম উঠে এসেছে। অতীতে খুনের মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল তাঁর। জানা যায়, এক কালে সোনার ব্যবসা ছিল তাঁর। সেই থেকেই নাম সোনা পাপ্পু। এখন তিনি কসবা এলাকায় প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।

Advertisement

রবিবার রাতের গন্ডগোলে রবীন্দ্র সরোবর থানায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর রুজু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার জন্য একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে রবিবার রাতেই দশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবারও বেশি রাতের দিকে তল্লাশি চালিয়ে আরও চার জনকে গ্রেফতার করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ।

একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় বাবলু সাউ ওরফে চিনি এবং ইন্দ্রজিৎ মাজি ওরফে ছোট বাবুকে। উভয়েই কসবা থানা এলাকার বাসিন্দা। একই ঘটনায় অপর একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় জয়ন্ত নস্কর ওরফে সোনু এবং দেবাশিস মণ্ডল ওরফে ভোটুকে। জয়ন্ত আনন্দপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। দেবাশিসের বাড়ি লেক থানা এলাকায়।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ঝামেলার সূত্রপাত হয়। গোলপার্কের কাছে পঞ্চাননতলায় একটি ক্লাবের পিকনিক হচ্ছিল। সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোল বাধে। জানা যাচ্ছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলমাল বেধেছিল সোনা পাপ্পুর দলবলের। এলাকাবাসীদের কাছে ব্যবসায়ী হিসাবেই পরিচয় বাপির। ওই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোনা পাপ্পুর দলবল এলাকা দখল করতে চাইছে। সেই কারণেই বাপিকে ‘টার্গেট’ করছে তাঁর দল।

অভিযোগ, রবিবার রাতে প্রায় ১০০-১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো এবং বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। হামলা করা হয় ধারালো অস্ত্র নিয়েও। রাস্তায় পুলিশের গাড়ি এবং স্থানীয়দের বাইকও ভাঙচুর করা হয়। ছোড়া হয় ইটও। সেই রাতেই রাস্তা থেকে গুলির খোল এবং বোমার সুতলি উদ্ধার করে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement