সুবিধা মতো স্কুলে বদলি, অভিযুক্ত শিক্ষিকা

সরকারি নির্দেশ ছাড়াই প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষিকা নিজের সুবিধা মতো পাড়ার স্কুলে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ছ’মাস ধরে তিনি পুরনো স্কুলে যাচ্ছেন না। আবার, এখান যে স্কুলে যাচ্ছেন, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষও তাঁকে হাজিরা খাতায় সই করতে দিচ্ছেন না। তবু মাসে-মাসে তাঁর বেতন ঠিক মতোই চলে আসছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা স্কুল পরিদর্শক।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ২৩:৫৬
Share:

সরকারি নির্দেশ ছাড়াই প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষিকা নিজের সুবিধা মতো পাড়ার স্কুলে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ছ’মাস ধরে তিনি পুরনো স্কুলে যাচ্ছেন না। আবার, এখান যে স্কুলে যাচ্ছেন, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষও তাঁকে হাজিরা খাতায় সই করতে দিচ্ছেন না। তবু মাসে-মাসে তাঁর বেতন ঠিক মতোই চলে আসছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা স্কুল পরিদর্শক।

Advertisement

দুর্গাপুরের কমলপুর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা তৃপ্তি নায়েক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্কুলে আসা বন্ধ করে দেন। ১৩ মার্চ তিনি হঠাৎ চলে যান দুর্গাপুরেরই সিএমইআরআই কলোনির শিশুবাণী প্রাথমিক স্কুলে। সেখানকার প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী মুখোপাধ্যায়কে তিনি জানান, সহকারী স্কুল পরিদর্শক তাঁকে এই স্কুলে যোগ দিতে বলেছেন। কাবেরীদেবী জানান, তাঁর কাছে কোনও নির্দেশ আসেনি। তাই তিনি তৃপ্তিদেবীকে হাজিরাখাতায় সই করতে দিতে রাজি হননি। কাবেরীদেবী বলেন, “উনিও কোনও লিখিত নির্দেশ দেখাতে পারেননি। তা ছাড়া আমাদের স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যার নিরিখে নতুন শিক্ষক পাওয়ার কথাও নয়।” তিনি জানান, স্কুলে বর্তমানে পড়ুয়া ১১৫ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। কাবেরীদেবী তখন থেকে নিয়মিত এই স্কুলে আসছেন। কাবেরীদেবী বলেন, “আমার বাড়ি চণ্ডীদাস এলাকায়। আমি অসুস্থ। তাই বাড়ির কাছে হবে বলে এই স্কুলে বদলি নিয়েছি।” শনিবার তৃপ্তিদেবী সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের স্বাক্ষর করা ১৩ মার্চের একটি বদলির চিঠি কাবেরীদেবীকে দিতে যান। কিন্তু তিনি তা নিতে চাননি। কাবেরীদেবী বলেন, “সরকারি চিঠি আসে ডাকযোগে। তা ছাড়া মাস ছয়েকের পুরনো একটি চিঠি এত দিন পরে কী ভাবে নেব?”

কমলপুর প্রাথমিক স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সেখানকার হাজিরা খাতায় কোনও সই নেই তৃপ্তিদেবীর। একই ভাবে শিশুবাণী স্কুলেও তাঁর কোনও লিখিত হাজিরা নেই। অথচ মাসে-মাসে বেতন পেতে তাঁর কোনও অসুবিধা হয়নি বলে জানান তৃপ্তিদেবী। কমলপুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বর্মন বলেন, “কোনও লিখিত নির্দেশ আমাদের স্কুলেও আসেনি। সহকারী স্কুল পরিদর্শকের মৌখিক নির্দেশে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।” সহকারী স্কুল পরিদর্শক অমিত ঘোষের সঙ্গে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে জেলা স্কুল পরিদর্শক পপি বর্মন বলেন, “বদলির পদ আগে অনুমোদন করতে হয়। তা না করেই বহু স্কুলে বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। তাই এমন সমস্যা হয়েছে।” দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Advertisement

নিজের স্কুল কামাই করে তৃপ্তিদেবী অন্য স্কুলে যেতে শুরু করায় তাঁর আগের স্কুলের এক সহকর্মী হাসি দাস বিষয়টি জেলা স্কুল পরিদর্শককে জানান। হাসিদেবীর অভিযোগ, তার পরেই তৃপ্তিদেবী তাঁকে হুমকি দেন। তাঁর দাবি, “শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে পরিচিতি কাজে লাগিয়ে তিনি দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, নোংরা ইঙ্গিতও করেন। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।” তৃপ্তিদেবী অবশ্য অভিযোগ মানেননি। পুলিশ জানায়, তদন্ত শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement