West Bengal Cabinet

মোদীর সম্মতির পরে রাজ্যে পূর্ণ মন্ত্রিসভা

আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর একার হাতেই রাজ্যের ৪৩টি দফতর রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য, ভূমি ও ভূমি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর। দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য বিজেপির কয়েক জন বিধায়ককে উচ্চ শিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সংস্কৃতির মতো দফতরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৭:৩০
Share:

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে আপাতত কাজ করছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। ছোট্ট মন্ত্রিসভার কাজের গতি বিপুল হলেও বাদ বাকি দফতরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। বিদেশ সফর সেরে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি ফিরলে এই বিষয়ে গতি আসতে পারে। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আগে রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর একার হাতেই রাজ্যের ৪৩টি দফতর রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য, ভূমি ও ভূমি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর। দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য বিজেপির কয়েক জন বিধায়ককে উচ্চ শিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও সংস্কৃতির মতো দফতরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ণ মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ, ইন্দ্রনীল খাঁ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, রূদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীরা সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় রাখছেন। বিজেপির একটি সূত্রের ইঙ্গিত, নতুন সরকারের শপথের সময়েই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদী মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন, হাতে কিছুটা সময় নিয়ে পূর্ণাবয়ব মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। ‘তাড়াহুড়ো’র প্রয়োজন নেই। সেই পরামর্শ মতোই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব দফায় দফায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-সহ বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভার চেহারা মোটামুটি তৈরি করে ফেলেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনের পরে সেই মন্ত্রিসভার পর্দা উন্মোচন হওয়ার কথা!

কিন্তু বিপুল ভোটে জিতেও এত দিনে মন্ত্রিসভা তৈরি করতে না-পারার ঘটনা কি জনমানসে ভুল বার্তা দিচ্ছে না? রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার মতে, ‘‘মানুষ কাজ দেখতে চান। নির্বাচনের আগে বিজেপি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গড়ার পরে তা পূরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। একের পর এক পদক্ষেপ হচ্ছে। বরং, নতুন মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত একটু বেশিই কাজ করে ফেলছেন বলা যায়!’’ ওই নেতার সংযোজন, ‘‘মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে রাখা আছে। দলের পদ্ধতি মেনে বাকি কাজ হবে।’’

বিজেপির সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী, কোনও রাজ্যে সরকার হলে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকা যায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। নির্দিষ্ট ধাপ পেরিয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি সেই তালিকা দেখার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ‘যাচাই পর্ব’ চালায়। তার পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তালিকা যায় চূড়ান্ত ধাপে। এই প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা সময় লাগে। তবে এই প্রক্রিয়া চললেও বিজেপির একটি সূত্রের ইঙ্গিত, দিল্লি বা বাইরে থেকে কাউকে এনে বড় দায়িত্ব দেওয়ার অপেক্ষায় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ আটকে নেই। রাজ্যে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যেই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন হতে চলেছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে কয়েক মাসের মধ্যে যে উপনির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে প্রার্থী বাছাইয়ের ভারও বিজেপির রাজ্য নেতাদের হাতেই আছে।

ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর পাশাপাশি শপথ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), মহিলা, মতুয়া, উত্তরবঙ্গ ও রাজবংশী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের বাছাই করা হয়েছিল। সূত্রের ইঙ্গিত, কয়েকটি দফতরের সঙ্গে যে বিধায়কদের সমন্বয় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা ছাড়াও কলকাতার তাপস রায়, মুর্শিদাবাদের সুব্রত (কাঞ্চন) মৈত্র, নদিয়ার বঙ্কিম ঘোষ, পূর্ব মেদিনীপুরের অশোক দিন্দা, বীরভূমের জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বাঁকুড়ার সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়ার সুদীপ মুখোপাধ্যায়, মালদহের জোয়েল মুর্মু, জলপাইগুড়ির শিখা চট্টোপাধ্যায়, আলিপুরদুয়ারের মনোজ ওরাওঁ প্রমুখের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার জন্য বিবেচনায় রয়েছে। ফলতার পুনর্নির্বাচনে জাহাঙ্গির-গড় তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মডেল’ ভেঙে বিজেপি কেমন ফল করে, সে দিকেও নজর আছে। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘জিতে এসেছেন ২০৭ জন, প্রত্যাশাও বিপুল। সব দিকে ভারসাম্য রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন