প্রতীকী ছবি।
শেষবেলায় মনোনয়ন জমা দিয়ে জল্পনা উস্কে দিলেন বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বংশীবদন মাহাতো!
সোমবার বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির শিলদা অঞ্চলের একটি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বংশীবদনবাবু। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদটি এ বার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। বংশীবদনবাবুর পুরনো আসনটিও এ বার সংরক্ষিত আদিবাসী মহিলার জন্য। প্রথমে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বংশীবদনবাবু। তা হলে কেন ফের মনোনয়ন? বংশীবদনবাবুর জবাব, ‘‘মনোনয়ন তো যে কেউ জমা দিতে পারেন। প্রত্যাহারও করা যায়।”
বংশীবদনবাবু তৃণমূলের বেলপাহাড়ি ব্লক সভাপতিও। জেলা তৃণমূল সূত্রের খবর, বংশীবদনবাবুকে সন্তুষ্ট করতে তাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া মাহাতোকে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের বেলপাহাড়ি ব্লকের একটি আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। সুপ্রিয়াদেবীর এলাকার মধ্যে রয়েছে ভুলাভেদা, বাঁশপাহাড়ি, শিমূলপাল, বেলপাহাড়ি ও সন্দাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। ওই এলাকাগুলিতে শাসক দলের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে সদ্য গঠিত আদিবাসীদের এক সংগঠন। তৃণমূল সূত্রের দাবি, সুপ্রিয়াদেবীর জয় নিয়ে সংশয় নেই। তা হলে কেন মনোনয়ন জমা দিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি? বংশীবদনবাবুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, তিনি কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন। যদি স্ত্রী নির্বাচিত না হন তা হলে কী হবে! এই আশঙ্কা থেকেই মত বদল বলে অনুমান অনেকের।
যদিও অন্দরের খবর, আসলে নিজের অনুগামীরা যাতে দলীয় প্রতীক পান তা নিশ্চিত করতেই জেলা নেতৃত্বের উপর ‘চাপ’ তৈরির কৌশল নিয়েছেন বংশীবদনবাবু। বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির ২৯টি আসনে তৃণমূলের হয়ে ৭২ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২৮টি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী আছেন ২০৫ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বংশীবদনবাবুর অনুগামী।
বংশীবদনবাবু পঞ্চায়েত সমিতির যে আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন, সেখানে প্রার্থী হয়েছেন বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শুভ্রা দত্তর স্বামী রাজেশ। শুভ্রাদেবী ব্যক্তিগত কারণে এ বার প্রার্থী হননি। শেষ মুহূর্তে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির মনোনয়ন ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে। যদিও ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “বংশীবদনবাবু মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এমন খবর জানা নেই। তাঁর স্ত্রী জেলা পরিষদের দলীয় প্রার্থী। যদি বংশীবাবু মনোনয়ন দাখিল করেও থাকেন তিনি দলের টিকিট পাবেন না।”