বিধানসভা ক্যান্টিনে নেই সংসদের সুখ

সংসদে জলের দরে পেটপুজোর খবরে চোখ কপালে উঠতেই পারে আমজনতার। তবে এ রাজ্যে বিধায়কেরা কিন্তু সাংসদদের মতো অতটা সুখে নেই।রাজ্য বিধানসভা বা বিধায়ক আবাসের (এমএলএ হস্টেল) ক্যান্টিন— দু’টোই ভর্তুকি ছাড়া চলছে বলে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দাবি করেছেন।

Advertisement

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০১৫ ০৩:০৯
Share:

সংসদে জলের দরে পেটপুজোর খবরে চোখ কপালে উঠতেই পারে আমজনতার। তবে এ রাজ্যে বিধায়কেরা কিন্তু সাংসদদের মতো অতটা সুখে নেই।

Advertisement

রাজ্য বিধানসভা বা বিধায়ক আবাসের (এমএলএ হস্টেল) ক্যান্টিন— দু’টোই ভর্তুকি ছাড়া চলছে বলে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দাবি করেছেন। দু’টি ক্ষেত্রেই টেন্ডার ডেকে বেসরকারি সংস্থাকে ক্যান্টিন পরিচালনার ভার দিয়েছে রাজ্য। বিমানবাবু বলেন, ‘‘বিধানসভা ও এমএলএ হস্টেলের ক্যান্টিন, দুটি ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার কোনও ভর্তুকি দেয় না। ভর্তুকি দিয়ে ক্যান্টিন চালানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই।’’ তবে তাঁর কথায়, ‘‘আমরা ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য জায়গা, বিদ্যুৎ ও জলের জোগান দিই। এ ছাড়া বিধানসভার ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য গৃহস্থের দরে মাসে ১২টি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হয়। এমএলএ হস্টেলে জ্বালানি খরচ বাবদ মাসিক ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।’’

ক্যান্টিন পরিকাঠামোর জন্য এই সরকারি সহায়তার কথা মাথায় রেখেই দরপত্র অনুযায়ী, দুই ক্যান্টিনের মেনুতে বিভিন্ন খাবারের দাম ধার্য করা হয়েছে। বিধানসভার ক্যান্টিনে এক প্লেট মাছভাত ৩৫ টাকা। এমএলএ হস্টেলে ৩৪ টাকা। বিধানসভার ক্যান্টিনে এক প্লেট ডিমভাতের দাম ৩০ টাকা। এমএলএ হস্টেলে ৩৪ টাকা। দু’টি করে ডিম থাকে। বিধানসভার ক্যান্টিনে সব্জি-ভাতের দাম ২৮ টাকা। ভাত, ডাল, তরকারি, চাটনি, স্যালাড, পাঁপড়, আলুভাজা। এক প্লেট চিকেন মিল ৬০ টাকা। এমএলএ হস্টেলে আরও পাঁচ টাকা কম।

Advertisement

অর্থাৎ? মোটামুটি মধ্যবিত্ত দরে খাবার পান বিধায়করা। দেশের সাংসদদের সঙ্গে তুলনা টানলে কোনও মাপেই আসে না। সাংসদরা সংসদের সেন্ট্রাল হলে এক প্লেট মাটন কারি খেতে পান মাত্র বিশ টাকায়। কিন্তু রাজ্য বিধানসভার ক্যান্টিনে এক প্লেট মাটন কারি খেতে বিধায়কদের গুনতে হয় ৮০ টাকা। এক প্লেট মুরগির স্টু ৫০ টাকা। এক প্লেট মাংস-ভাতের (মাটন) দাম ১০০ টাকা।

সাংসদদের তুলনায় শাকাহারী বিধায়করাও সুখে নেই। সংসদ ভবনে ভেজিটেবল স্টু খেতে সাংসদদের দিতে হয় মাত্র চার টাকা। আর বিধানসভার ক্যান্টিনে ওই খাবার খেতে বিধায়কদের খরচ পড়ে ৩০ টাকা। ভেজ চাউমিন ১৮ টাকা আর এক প্লেট ভেজ পোলাওয়ের দাম ৫৫ টাকা। সংসদ ভবনে চিকেন বিরিয়ানির দামও এর চেয়ে কম।

শুধু দাম নয়, খাবারের মান নিয়েও অনেক বিধায়ক সন্তুষ্ট নন। মুর্শিদাবাদের নওদার কংগ্রেস বিধায়ক আবু তাহের খান যেমন বলছেন, ‘‘দামটা বড় কথা নয়, রান্নাটাই গলা দিয়ে নামতে চায় না। মাছটাছের মানও ভাল নয়।’’ তাঁর আক্ষেপ, ‘‘এমএলএ হস্টেলে বা বিধানসভায় অনেক সময়ে বিশিষ্ট অতিথিরা আসেন। তখন খেতে বসলে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।’’ বিধানসভার ক্যান্টিনের ম্যানেজার রাজু হালদার অবশ্য খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ শুনতে রাজি নন।
তাঁর কথায়, ‘‘সংসদ ভবনের ক্যান্টিনের সঙ্গে আমাদের কোনও তুলনাই চলে না। ওখানে সব সরকারি কর্মী। আমরা চুক্তিতে কাজ করছি।’’ এমএলএ হস্টেলে অবস্থা আরও খারাপ। আগে যারা ক্যান্টিন চালাত, তারা হঠাৎ সরে যাওয়ায় জোড়াতালি দিয়ে সব চলছে। তবে নতুন টেন্ডার ইতিমধ্যেই ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement