শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার রাতে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। —ফাইল চিত্র।
এ বার নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতে শুরু করল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যায় ক্ষুব্ধ বিজেপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। এরই মধ্যে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ তোপ দাগলেন ‘পিসি-ভাইপো’র বিরুদ্ধে। তবে সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি তিনি।
চন্দ্রনাথের খুনকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলেই মনে করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এটি একটি পরিকল্পিত, প্রতিহিংসাজনিত হত্যা বলে মত তাঁর। এ বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়িয়ে রাহুলের দাবি, ‘তৃণমূলের উচ্চস্তর’ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ গিয়েছিল। পরে তিনি বলেন, “আমরা তো বলছি তৃণমূল করিয়েছে। কিন্তু আপনি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে জনে জনে জিজ্ঞাসা করুন, প্রত্যেকে বলবেন, এটা পিসি-ভাইপোই করিয়েছে।”
বারাসত মেডিক্যালের মর্গে ইতিমধ্যে চন্দ্রনাথের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শুভেন্দু, শমীকও সকালে পৌঁছে গিয়েছিলেন বারাসত হাসপাতালে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ইতিমধ্যে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, “সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে।” বলেছেন, “আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে পারি, কথা বলতে জানি। কিন্তু তা-ও বলছি না, বলব না। এটাই আমাদের অবস্থান।”
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন রাহুলও। তবে একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। চন্দ্রনাথের খুনের নেপথ্যে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের হাত থাকতে পারে কি না, সে বিষয় প্রশ্ন করা হলে রাহুল বলেন, “স্থানীয় হোক বা যাই হোক, অর্ডার কে দিয়েছে? অর্ডার তৃণমূলের উচ্চস্তর থেকে এসেছে। যে ধরনের ভাড়াটে খুনিদের লাগানো হয়েছে, তারা অত্যন্ত দক্ষ। অর্থাৎ, এদের লাগাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়েছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এর সঙ্গে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে যে সন্দেহ মানুষ করছে, তা অমূলক নয়।” রাহুলের দাবি, তৃণমূলের একেবারে উপরের স্তর থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার রাতের এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা করছি। সেই সঙ্গে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হাতে ভোট-পরবর্তী হিংসায় তিন জন তৃণমূলকর্মীর মৃত্যুরও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। এ বিষয়ে আমরা কঠোরতম পদক্ষেপ দেখতে চাই। আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যায়। গণতন্ত্রে হিংসা এবং রাজনৈতিক খুনোখুনির কোনও জায়গা নেই।’’
তবে এই পরিস্থিতিতে দলের নিচুতলার কর্মীদের সংযত থাকারও বার্তা দিয়েছেন রাহুল। পুলিশি তদন্তের উপরে আস্থা রাখার কথাও বলেছেন তিনি। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদের কথায়, পুলিশ এখন আর দলদাস নেই। তাই পুলিশ স্বাধীন ভাবে কাজ করবে বলেই মনে করছেন তিনি। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের উপরেই আস্থা রাখার জন্য দলীয় কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে, তাদের উল্টো করে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। উল্টো করে টাঙানোর কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন উল্টো করেই টাঙানো হবে। কিন্তু যা-ই হবে আইন মোতাবেক হবে।”