সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
বিদ্রোহী বিশ সাংসদের সদস্যপদ খারিজ করার পৃথক পৃথক আবেদনপত্র স্পিকারের কাছে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত কাল জমা দেওয়ার পর কিছুটা আলোড়ন তৈরি হয়েছিল এনসিপিআই শিবিরে। কিন্তু বিজেপির বরাভয় মিলেছে। সূত্রের খবর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মালের মতো সাংসদেরা গত রাতে বিজেপির সংশ্লিষ্ট এক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। দিল্লির সেই নেতা তাঁদের জানিয়েছেন, দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা হয়ে গিয়েছে। আপাতত এনডিএ-র বৃহত্তম শরিক দলটির (এনসিপিআই) দায়িত্ব বিজেপির কাঁধে।
সূত্রের খবর, বিজেপি নেতৃত্ব সংসদীয় রাজনীতিতে সদ্যোজাত এনসিপিআই দলটিকে সব রকম রক্ষাকবচ দেওয়ার কৌশল রচনা করছে। এমনও দাবি করা হচ্ছে, বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কয়েক দিন আগে বিদ্রোহীদের এক নেত্রীকে জানিয়েছিলেন, বাইরে যে ‘অপপ্রচারই’ (বিদ্রোহীরা টোপ বা কোপের ভয়ে এনডিএ-মুখী হয়েছেন) হোক না কেন ক্ষমতাসীন দলেরই তাঁদের বেশি প্রয়োজন ছিল, উল্টোটা নয়। জানা গিয়েছে, প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি, সমস্ত রকম আইনি সহায়তা, সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়া– সমস্ত দায়িত্বই বিজেপি নেবে পরিস্থিতি সাপেক্ষে। সূত্রের খবর, রাতে সুদীপের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে এনসিপিআই-এর কয়েকজন সাংসদের।
প্রাথমিক ভাবে বিদ্রোহী সাংসদদের পরিকল্পনা ছিল, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘মডেল’ নেওয়ার। অর্থাৎ প্রকৃত তৃণমূল হিসাবে দুই তৃতীয়াংশের ব্লক তৈরি করে মূল দলের প্রতীক চিহ্ন এবং নামের জন্য স্পিকারের কাছে কাগজ জমা দেওয়া। কিন্তু সময় চলে যাচ্ছে এবং সইয়ের সংখ্যা ১৪ বা ১৫-তে আটকে রয়েছে— এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সূত্রের খবর, সুদীপ অপেক্ষা করছিলেন ১৯ জন অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের সই হলে তবেই তিনি সই করবেন। এনসিপিআই-কে বিজেপি কার্যত খুঁজে বের করে বিদ্রোহীদের তাতে শামিল হতে বলে, একেবারে শেষ মুহূর্তে, স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার আগে। চাপ আরও বাড়ে তাঁদের স্পিকারের কাছে পৌঁছনোর আগেই অভিষেকের চিঠি নিয়ে কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছে যাওয়ায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখন এই বিষয়টি নিয়ে কিঞ্চিৎ আফশোস হচ্ছে এনসিপিআই-এর সাংসদদের একাংশের। কারণ, মুখে যতই বলা হোক এনসিপিআই-এ যোগ দিয়ে তৃণমূলের জোড়াফুল দাবি করা বাস্তবে একান্তই অসম্ভব। অন্য একটি দলে মিশে গিয়ে পুরনো দলের প্রতীক চাওয়া একেবারেই অলীক।
তবে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ মনে করছে, বিজেপি সুপরিকল্পিত ভাবেই তাঁদের অন্য একটি গুরুত্বহীন দলে মিশিয়ে দিয়েছে। কাগজ জমা পড়ে গিয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদরা যদি ঋতব্রত মডেলে প্রকৃত তৃণমূলের দাবি নিয়ে অধিবেশনে যোগ দিতেন, বিল পাশের সময়, ভোটদানের ক্ষেত্রে বিজেপি-র সমস্যা হতে পারত। আদালতে যেত আদি তৃণমূল। তা হলেও বিষয়টি বিচারাধীন থাকত, দ্রুত ফয়সালার প্রশ্ন নেই। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তৃণমূল হিসেবে লোকসভায় বিদ্রোহীরা বসলে দলের চেয়ারপার্সন (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)-এর হুইপ বিল পাশের সময় অমান্য করা যেত না। কারণ তা করলে সেই ভোট বাতিল ধরতে হত সংসদীয় বিধি অনুযায়ী। যে কারণে এই এনসিপিআই-কে তৈরি করা, সেটাই ভেস্তে যেত।
তৃণমূলত্যাগী সাংসদরা অর্থের বিনিময়ে তৃণমূল ছেড়েছেন এই মর্মে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে এনসিপিআই। আজ শতাব্দী রায় বলেন, “প্রমাণ ছাড়াই এমন কথা বলার কি মুখ রয়েছে ওঁর? উনি যে ‘ডিল’ করেছিলেন, তা প্রমাণিত। ইতিহাস বলছে, প্রথম বারের সাংসদ হিসাবে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন অভিযোগে মহুয়া মৈত্রকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সংসদের এথিকস কমিটি অভিযোগ বিচার করে তাঁর আচরণকে অনৈতিক বলে সদস্যপদ খারিজের সুপারিশ করে। মহুয়া মৈত্র তো দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে