— প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে এ বারে তিন দফায় বিধানসভা নির্বাচন হোক, এমনটাই চাইছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। দলের বক্তব্য, তৃণমূলের ভোটে কারচুপি রোখার লক্ষ্যেই এ বারের নির্বাচন যথাসম্ভব কম পর্বে করার আবেদন জানানো হয়েছে। এ দিকে আজ বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদে নিতিন নবীন মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে প্রথম যে বৈঠকটি করেন তা ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, দল যে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনকেই পাখির চোখ করেছে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন নিতিন নবীন।
গত বারে করোনা সংক্রমণের আবহে আট দফায় বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। যা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। গেরুয়া শিবিরের মতে, পাঁচ বছর আগে বেশি দফায় ভোট করানোর ফায়দা তুলে নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এ বারে তিন দফায় বা খুব বেশি হলে চার দফায় ভোট করানোর পক্ষপাতী বিজেপি।
বিজেপির এক নেতার ব্যাখ্যা, তৃণমূলের নেতৃত্বে প্রায় লক্ষাধিকের কাছাকাছি ক্যাডার রয়েছে। যারা মূলত দলের হয়ে ভোট কারচুপির কাজ করে থাকে। ওই বিজেপি নেতার কথায়, ‘‘বেশি পর্বে ভোট হলে শাসক দল সুবিধে পেয়ে থাকে। বেশি পর্বে নির্বাচন মানেই কম কেন্দ্রে ভোট। ফলে সেই অনুপাতে কারচুপির লক্ষ্যে বুথ পিছু বেশি সংখ্যক লোক নিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছিল তৃণমূল।’’
তবে রাজ্যে তৃণমূল যতটা শক্তি ধরে তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তি, বিশেষত কারচুপি রোখার মতো ক্ষমতা কি আদৌ রয়েছে বিজেপির? দলের ওই নেতার কথায়, সর্বত্র হয়েছে বলা ঠিক নয়। তবে মোটের উপর আগের চেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে দল। দলীয় কর্মী ও আধাসেনা এক সঙ্গে কাজ করলে কারচুপি রোখা সম্ভব। অন্য দিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, অতীতেও আধাসেনা দিয়ে ভোট করিয়েছে বিজেপি। লাভ হয়নি। এ বারেও হবে না।
ভোটে কারচুপি রোখার প্রশ্নে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো সহ নির্বাচন কমিশনার, পর্যবেক্ষক, এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও এখন আতশকাচের তলায়। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ভোটের ঠিক আগের দিন বা ভোটের দিন বুথের দায়িত্ব বুঝে নেওয়া পর্যবক্ষক, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৃণমূল নেতারা এমন আপ্যায়ন করে থাকেন যে ভোটের দিন নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে প্রশ্নে গাফিলতি লক্ষ করা গিয়েছে। এ বারে তাই পর্যবেক্ষক ও বিশেষত কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েনের প্রশ্নে কমিশনকে যথাসম্ভব সতর্কতা বজায় রেখে চলার জন্য দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর গণ্ডি থাকে বুথের নিরাপত্তা ও লাইনের ভিড়ের সীমানা পর্যন্ত। কিন্তু ভোটারেরা বাড়ি থেকে যাতে নিরাপদে ভোট দিতে আসতে পারেন তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য চাইছে বিজেপি। নিদেনপক্ষে ভোটকেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলিতে ভোটের দিন নিরন্তর রুট মার্চ করার দাবি তুলেছে বিজেপি।
এ দিকে আজ কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই নিতিন নবীন প্রথম যে বৈঠকটি করেন তা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে। সূত্রের মতে, আজ রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা সুনীল বনশল, ভূপেন্দ্র যাদব, সতীশ ধন্দেরা। ছিলেন দুই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুরও। সূত্রের মতে, বৈঠকে রাজ্যে দলের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে দল কোন পথে আক্রমণে নামবে সেই রণকৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সভাপতি হওয়ার পরে নিতিনকে প্রথম রাজ্য সফর হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাজ্য নেতারা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে