Rajyasabha Election

রাজ্যসভা ভোটে বিজেপির নজরে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধেরা

মার্চের গোড়ায় দোল। তার পরে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা রাজ্যে। সূত্রের মতে, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ভোট শুরু হয়ে যাবে রাজ্যে।

অগ্নি রায়, অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৭
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ভোটের বাদ্য বাজিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আজ কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৬ মার্চ দেশের দশটি রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভার আসনে ভোট হবে। সে জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। এই ৩৭টির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসন রয়েছে। সংখ্যার নিরিখে চারটি আসনে তৃণমূল এবং একটিতে বিজেপির জয় নিশ্চিত। তারপরেও তৃণমূলের আশঙ্কা, তাদের ‘বিক্ষুব্ধ’ বিধায়কদের ‘ভাঙিয়ে’ আরও একটি আসন নিজেদের ঝুলিতে টানার চেষ্টা করতে পারে বিজেপি। কারণ, তৃণমূল সূত্রে এর মধ্যেই খবর, বেশ কয়েক জন বিধায়ক আগামী বিধানসভা ভোটে টিকিট না-ও পেতে পারেন। তাঁদের ‘ক্ষোভ’ বিজেপি কাজে লাগাতে পারে বলে তৃণমূলের মধ্যে আশঙ্কা।

মার্চের গোড়ায় দোল। তার পরে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা রাজ্যে। সূত্রের মতে, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ভোট শুরু হয়ে যাবে রাজ্যে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যসভার ভোটাভুটি হওয়ার আগেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার ঝুঁকি নেবেন? সূত্রের মতে, কয়েক জন বর্তমান বিধায়কের পরিবর্তে নতুন মুখ দিতে চলেছে তৃণমূল। যদি তা সত্যিই হয়, তা হলে দলে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কেন না, টিকিট না পেলে রাজ্যসভায় দলের প্রার্থীকে জেতানোয় তেমন উৎসাহ তৃণমূলের বিধায়কদের না থাকাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তখন তাঁদেরভাঙিয়ে রাজ্যসভার ভোটে নিজেদের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করতেপারে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪। এ বারে ৫টি আসনে ভোট হবে। অর্থাৎ, এক এক জন প্রার্থীকে ৫০টি করে প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হবে। বিধানসভায় এখন বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। দলের এক জন নিশ্চিত প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ৫০টি ভোট বাদ দিলে হাতে থাকে আর ১৫টি ভোট। বিজেপির অঙ্ক, তারা যদি তৃণমূলের ৩৫ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের প্রথম পছন্দের ভোট জোগাড় করতে পারে, তা হলে তাদের দ্বিতীয় প্রার্থীও জিতে যাবেন।

তবে বিজেপি এই অঙ্কের কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় আসন জয়ের জন্য ঝাঁপাবে কি না, সেটা বোঝা যাবে ৫ মার্চ, মনোনয়ন জমার দিনে। যদি তৃণমূলের চার ও বিজেপির এক জন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেন, সে ক্ষেত্রে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। স্বাভাবিক অঙ্কের নিয়মে জিতে যাবেন সবাই।

এ বারেই বিকাশ ভট্টাচার্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই এ বারের রাজ্যসভার ভোট-পর্ব শেষ হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় সিপিএমের প্রতিনিধিত্ব শূন্য হয়ে যাবে।

এপ্রিলে তামিলনাড়ু থেকে খালি হচ্ছে ডিএমকে-র বেশ কয়েকটি আসন। তার মধ্যে একটিতে দাঁড়াবেন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের জামাতা সাবারিসান। মহারাষ্ট্রে নিজের দলীয় সংখ্যা না থাকলেও রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধীদের ঐক্য-ভোটে রাজ্যসভায় জিতে আসতে চলেছেন শরদপওয়ার। মেয়াদ শেষ হচ্ছেকংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিরও। তাঁকে তেলঙ্গনা থেকে ফের রাজ্যসভায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে মেয়াদ শেষ হচ্ছে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালে। তাঁকে মহারাষ্ট্রের কোনও একটি আসন থেকে ফের জিতিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন