সুজিত বসু। ফাইল চিত্র।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে স্বস্তি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। ইডির গ্রেফতারির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের নির্দেশ, নিয়মিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। গ্রেফতারি নিয়ে ইডি বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে। হলফনামা দেবেন সুজিতও। সুজিতের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরার সওয়াল, ‘‘আমার মক্কেল গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি অভিযুক্ত নন।’’ বিচারপতি জানান, এখনই কোনও রিলিফ (স্বস্তি) নয়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে। সেখান থেকেই গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বৃহস্পতিবার সুজিতের আইনজীবী এ বিষয়ে হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলা দায়েরের অনুমতিও দেওয়া হয়।
গ্রেফতারির আগে সুজিতকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। ভোটের আগে তাঁকে কয়েক বার তলব করা হয়েছিল। সেই সময় সুজিত জানিয়েছিলেন, তিনি প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রচারপর্ব মেটার পর গত ১ মে তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন। সে বার তাঁকে কিছু ক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর ফের সুজিত ইডি দফতরে যান ১১ মে। সঙ্গে তাঁর আইনজীবীও ছিলেন। ছিলেন সুজিতের পুত্র সমুদ্র বসু। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিতকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে সুজিতের বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, সেই তালিকায় কমবেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি। তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যও।