বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। — ফাইল চিত্র।
‘দাদগিরি’তে অভিযুক্ত চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে এ বার চাকরি থেকেই বরখাস্ত করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর বন্ড খারিজ করা হল। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর সংশ্লিষ্ট কমিটির দেওয়ার রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বরখাস্ত হওয়ায় বিরূপাক্ষকেই চুক্তি অনুযায়ী ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।
পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন বিরূপাক্ষ। তবে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করে স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যে পালাবদলের পর এ বার সাসপেন্ড হওয়া সেই চিকিৎসককে চাকরি থেকে সরানো হল। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটির। তাদের রিপোর্টে বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত বলে জানানো হয়েছে। সেই রিপোর্টে মান্যতা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিরূপাক্ষকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে বিরূপাক্ষের সিনিয়র রেসিডেন্টের মেয়াদ বাতিল করা হল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যে হেতু তা বাতিল করা হচ্ছে, তাই নিয়ম মেনে বিরূপাক্ষকে ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিরূপাক্ষকে যাতে আর কোনও সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত না-করা হয়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে অবহিত করা হয়েছে।
আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগে বিরূপাক্ষের সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল চিকিৎসক অভীক দে-র। দিন কয়েক আগেই তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য ভবন। তিনি কী ভাবে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন, তা-ও খতিয়ে দেখতে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ সম্পর্কে বিরূপাক্ষ বলেন, “১ বছর ৯ মাস আমি সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে ছিলাম। সরকারি আদেশ মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের উচিত।” এ-ও জানান, অতীতে পূর্বতন সরকারকে একাধিক চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরেই আরজি করের ঘটনার তদন্ত পুনরায় শুরুর পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত সকলকেই সেই তদন্তের আওতায় আনার দাবি রয়েছে চিকিৎসকদের। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মুখ বন্ধ খামে যে সন্দেহভাজনদের নামের তালিকা নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক জমা দিয়েছিলেন, তাতে প্রথমের দিকে অভীকের মতোই বিরূপাক্ষের নাম ছিল বলে খবর।