Supreme Court on Dowry Death

বিয়ে করে কেন স্ত্রীকে অপমান, হেনস্থা? পণের বিষয়ে ‘শিক্ষিত সমাজের’ আচরণও উদ্বেগজনক, মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট

২০১০ সালে বিয়ের তিন বছরের মাথায় ছত্তীসগঢ়ের এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ২২:২১
Share:

পণপ্রথা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। —ফাইল চিত্র।

বিয়ে করার পর কেন স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের লোকজনকে অপমান করেন পুরুষেরা? কেন তাঁদের হেনস্থা করা হয় বিয়ের পর? ২০১০ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। পণের দাবিতে এই ধরনের হেনস্থা আর চলবে না, জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ। সমাজে এ বিষয়ে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া দরকার বলে তাঁরা মনে করছেন। পণপ্রথার বিষয়ে ‘শিক্ষিত’ সমাজের একাংশের আচরণও উদ্বেগজনক, মত বিচারপতিদের।

Advertisement

২০১০ সালে বিয়ের তিন বছরের মাথায় ছত্তীসগঢ়ের এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, পণ চেয়ে নানা ভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হত। পণ হিসাবে চাওয়া হত নগদ অর্থ এবং গাড়ি। তরুণীর বাবা ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও তাঁদের ‘ভিখারি’ বলে অপমান করা হয়েছিল। এর পরেই তরুণী আত্মঘাতী হন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, পণের হেনস্থায় মৃত্যু-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তরুণীর দেওরকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত। ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টও সেই রায় বহাল রেখেছিল। সুপ্রিম কোর্ট তাতে হস্তক্ষেপ করেনি। বরং মামলাকারীর আইনজীবী ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতিরা। ভোপালে মৃত মডেল-অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার মামলার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

ছত্তীসগঢ়ের ওই তরুণীর দেওরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় নিষ্ঠুরতা এবং হেনস্থার মামলা রুজু হয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘ছেলেরা কেন মেয়েদের বিয়ে করে আর তার পর তাদের ও তাদের পরিবারকে অপমান করে? এটা করা যাবে না। এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হোক।’’ মৃতের দেওরের আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, ‘‘আপনার চুপ করে থাকা উচিত। আর্থিক জবরদস্তির ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, কনের পরিবারকে শোষণ করার চেষ্টা হয়েছে। বরের পরিবার ঠিক কী বলেছে? বলেছে, ‘আপনারা ভিখারি। টাকা দিতে পারছেন না।’ মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে ওঁর পরিবার কাকুতিমিনতি করছিল। মেয়েটির বাবা ৬০ হাজার টাকা দিতে পারবেন বলেছিলেন। আর আপনারা ওঁদের ভিখারি বলছেন?’’

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও বিয়ের পর কনের পরিবারের কাছে পণ চেয়ে এই ধরনের আচরণ ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে। বিচারপতি ভূয়ান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘‘এঁরা সব শিক্ষিত নাগরিক।’’ দেওরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement