Purba Bardhaman Incident

গর্ভবতী নন, অথচ ১০ মাস ধরে চলছিল চিকিৎসা, লেবার রুমে মহিলা জানতে পারলেন আসল ঘটনা! হুলস্থুল কাটোয়ায়

চিকিৎসকদের মতে, ফুলবানু ‘সিউডোসাইসিস’-এ আক্রান্ত। অর্থাৎ, গর্ভবতী না-হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শরীরে গর্ভধারণের মতো বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়য় এর ফলে অনেক সময় কোনও মহিলা নিজেও নিজেকে গর্ভবতী বলে মনে করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ২২:১৯
Share:

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। — ফাইল চিত্র।

গর্ভবতী নন, অথচ দীর্ঘ দিন ধরেই সেই সংক্রান্ত চিকিৎসাই চলছিল এক মহিলার! পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে চাঞ্চল্য ছড়াল। ওই মহিলাকে যখন লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর গর্ভে কোনও সন্তানই নেই। কী ভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কেতুগ্রাম-১ ব্লকের হাট মুরগ্রামের বাসিন্দা ফুলবানু বিবিকে সন্তান প্রসবের জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের তরফে দাবি, পেটে ব্যথা (লেবার পেন) উঠেছিল ফুলবানুর। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শের তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে লেবার রুমে নিয়ে যান চিকিৎসকেরা। সেখানে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় পরীক্ষা করে জানান, ফুলবানু বিবি আদৌ গর্ভবতী নন। তাঁর গর্ভে কোনও সন্তান নেই! বিভ্রান্তি এড়াতে হাসপাতালের তরফে আবার ফুলবানুর ইউএসজি করানো হয়। রিপোর্টে চিকিৎসক সুদীপ্তের অনুমানই সত্যি প্রমাণিত হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ফুলবানু ‘সিউডোসাইসিস’-এ আক্রান্ত। অর্থাৎ, গর্ভবতী না-হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শরীরে গর্ভধারণের মতো বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। এর ফলে অনেক সময় মহিলা নিজেও নিজেকে গর্ভবতী বলে মনে করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এত দিন ধরে চিকিৎসক এবং ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন এই বিষয়টি বুঝতে পারলেন না?

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, ফুলবানুকে ‘মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড’ও দিয়েছিলেন আশাকর্মী। পরিবারের দাবি, অন্তঃসত্ত্বাজনিত ইঞ্জেকশন এবং ওষুধও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ফুলবানুর বাবা ফুলচাঁদ শেখ বলেন, ‘‘ডাক্তারবাবু বলেছিলেন পেটে যে বাচ্চা আছে তার জন্ডিস হয়েছে। সেই মতো ওষুধও দেওয়া হয়েছিল।’’ যদিও ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি কখনও ফুলবানুকে গর্ভবতী বলেননি। তাঁর বক্তব্য, তিনি শুধুমাত্র ইউএসজি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি গর্ভবতী নন জানতে পেরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন ফুলবানু। প্রায় ১০ মাস ধরে নিজেকে গর্ভবতী বলে বিশ্বাস করার পর হাসপাতালে এসে আসল বিষয়টা জানার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানিয়েছেন, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দায়িত্বে থাকা ব্লক স্বাস্থ্যকর্মীকে শো কজ় করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement