—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
কেন্দ্রে কাজ করার প্রশ্নে (সেন্ট্রাল ডেপুটেশন) আইপিএস অফিসার ছাড়তে চায় না পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি। এই সমস্যা মেটাতে এ বার নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র জানাল, পুলিশ সুপার (এসপি) বা ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদে থাকা আইপিএস অফিসারদের ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) হিসেবে পদন্নোতি পেতে গেলে ন্যূনতম দু’বছর কেন্দ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ২০১১ সালের আইপিএস অফিসারদের ব্যাচ থেকে ওই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রের ওই একতরফা নির্দেশের পাল্টা হিসেবে রাজ্যগুলির যুক্তি, এমনিতেই রাজ্যে প্রয়োজনের থেকে কম আইপিএস অফিসার নিয়োগ হয়। তার মধ্যেও যদি বাড়তি অফিসারদের কেন্দ্রে পাঠাতে হয়, তা হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা কে সামলাবে?
পশ্চিমবঙ্গ বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, তারা রাজ্যের আইপিএসদের কেন্দ্রীয় নিয়োগে পাঠায় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, বাম জমানায় তা-ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আইপিএস অফিসারেরা আসতেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে কার্যত তলানিতে ঠেকেছে অফিসারদের দিল্লি পাঠানো। কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত অনেক তরুণ অফিসার দিল্লি এসে কাজ শিখতে ইচ্ছুক। কিন্তু রাজ্য সরকারের ছাড়পত্রের অভাবে তাঁরা আসতে পারছেন না। সেই কারণেই ওই বাধ্যতামূলক নিয়ম আনা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আইজি পদের জন্য তালিকাভুক্ত হতে এসপি বা ডিআইজি পদমর্যদার অফিসারের কেন্দ্রে অন্তত দু’বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আইপিএস অফিসার, যাঁরা ২০১১ সালে পাশ করেছেন, তাঁদের থেকে ওই নিয়ম চালু হচ্ছে।
রাজ্যগুলির পাল্টা যুক্তি, রাজ্যের যত আইপিএস প্রয়োজন, সেই সংখ্যক অফিসার কেন্দ্র দেয় না। এমনিতেই কম আইপিএস অফিসার দিয়ে কাজ চালাতে হয় রাজ্যকে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অভিজ্ঞতার জন্য আইপিএসদের ছাড়তে হলে প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হবে। অনেক আইপিএস কেন্দ্রে কাজ করতে গিয়ে আর ফিরে আসেন না, এমন অভিযোগও রয়েছে রাজ্যের। বিশেষ করে বাম আমলের শেষ পর্যায়ে একাধিক আইপিএস অফিসার কেন্দ্রীয় নিয়োগ নিয়ে দিল্লি চলে এসেছিলেন, যাঁরা আর ফিরে যাননি। তাই আইপিএস-দের না ছাড়ার এটিও একটি কারণ বলে জানিয়েছে রাজ্য।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে