পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাম সংগঠনের সমাবেশ। শিয়ালদহে। — নিজস্ব চিত্র।
হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে পথের আন্দোলনে জোর দিচ্ছে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না, এই দাবিতে সিটু অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে শুক্রবার শিয়ালদহে ‘রেল হকার সমাবেশ’ হয়েছে। সেখানে রেল পুলিশের সঙ্গে হকারদের একাংশের বিতণ্ডাও বেধেছে। এই আবহে বিজেপির অবশ্য বক্তব্য, আইন মেনেই যা হওয়ার হচ্ছে।
‘গরিবের রুজিতে বুলডোজ়ার চালানো যাবে না’, এমন স্লোগান তুলে শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে এ দিন হকার সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন সিটুর রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু, সংগঠনের নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের সম্পাদক দীপঙ্কর শীল, সভাপতি অলকেশ দাস, পশ্চিমবঙ্গ স্ট্রিট হকার্স ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস দে-সহ অন্যেরা। অনাদি বলেছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন তখন হকার উচ্ছেদের বিপক্ষে বলেছিলেন। তা হলে আজ কেন বুলডোজ়ার চলছে?” অলকেশের অভিযোগ, “ভোটের ফলপ্রকাশের দিন থেকে হকার উচ্ছেদ, আরপিএফের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। হকার-মুক্ত রেল স্টেশন করা যাবে না। একমাত্র সমাধান, উপযুক্ত পুনর্বাসন। সে জন্য রাজ্য সরকার ও রেল এক সঙ্গে বসুক। উন্নয়নের স্বার্থে হকারেরা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি। কিন্তু পেশি শক্তি ব্যবহার চলবে না।” বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দৃষ্টি আকর্ষণও করতে চেয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এই প্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁয়ের পাল্টা বক্তব্য, “পশ্চিমবঙ্গে এখন আর শাসকের আইন নেই। আইনের শাসন চলছে। তাই আইন মেনে যা হওয়ার হচ্ছে। আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা হবে না।”
হকারদের একাংশের দাবি, সমাবেশ চলাকালীন এ দিন প্ল্যাটফর্মে জিনিসপত্র রাখতে গেলে রেল পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে বাধা দেয়। এর প্রতিবাদে স্টেশন চত্বরেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন হকারেরা। মহম্মদ আলাউদ্দিন মণ্ডল নামে এক হকারের অভিযোগ, “উচ্ছেদের দিন দোকানে লুটপাটও হয়েছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে