মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে যে সওয়াল করেছেন, তাতে তাঁর সংবিধানের প্রতি আস্থাই প্রকাশ করে। সেই সওয়াল নিয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এই কথাই বললেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না।’’
মমতার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করা নিয়ে আবেদন করেছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তারা দাবি করেছিল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এসআইআর নিয়ে কোর্টে এই সওয়াল ‘সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত’। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার নিজেদের পর্যবেক্ষণের কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলারও শুনানি হয়।
গত বুধবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে। ওই দিন শুনানির সময়ে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাও। আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেও বক্তব্য জানান। এসআইআর নিয়ে রাজ্যের একাধিক সমস্যার কথা তিনি তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি কান্তের এজলাসে।তিনি জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হয়েছে। হঠাৎ কেন তিন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেন মমতা। গত বুধবারের শুনানির পরে তিনটি নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার আবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। তার আগে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সহসভাপতি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। তাতে জানান, এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছেন, তাতে হস্তক্ষেপ করা হোক। আবেদনে দাবি করা হয়ে, ‘‘পিটিশনের বিষয় ব্যক্তিগত নয়। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি রাজ্যের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের এসআইআর পরিচালনা করা সাংবিধানিক অধিকার।’’ আবেদনে আরও জানানো হয়, ‘‘এই পরিস্থিতিতে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে সওয়াল করার দাবি তুলতে পারেন না। ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর উপস্থিতিও সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত।’’ সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল করা সংবিধানের উপরে তাঁর আস্থাই প্রকাশ করে।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয় যে, এসআইআর-এর কাজে বাধা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কমিশনের কাজের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, এমন মন্তব্যও করেছে আদালত।