PM Narendra Modi and CM Suvendu Adhikari

পশ্চিমবঙ্গকে ৪০ হাজার কোটি দেওয়া হয়েছে, আরও ৬০ হাজার কোটি দেওয়া হবে, শুভেন্দুকে বাংলায় লেখা চিঠিতে উল্লেখ মোদীর

মোদী লিখেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে সম্ভাব্য সব রকম সাহায্য করবে। জল জীবন মিশন এবং পরিকাঠামো সম্পর্কিত কাজ-সহ অতীতের আটকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০০:২১
Share:

(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী এবং নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এক আবেগঘন বার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে পাঠানো পাঁচ পাতার চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সেই চিঠির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন শুভেন্দু। এই চিঠিতে মোদী জানিয়েছেন মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গকে কত পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, এবং কত অর্থ দেওয়া হবে।

Advertisement

মোদী লিখেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে সম্ভাব্য সব রকম সাহায্য করবে। জল জীবন মিশন এবং পরিকাঠামো সম্পর্কিত কাজ-সহ অতীতের আটকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘রেলের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’’ বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময় রাজ্যে এসে মোদী কথা দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা হলে ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যকে সব রকম সাহায্য করবে। দু'দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের পাশাপাশি রাজ্যের জন্য তার সরকার এখন‌ও পর্যন্ত কত বরাদ্দ দিয়েছে এবং আগামীতে সেই বরাদ্দের পরিমাণ কত হতে পারে সেই নিয়ে শুভেন্দুকে লেখা চিঠিতে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্বের উপর বিশেষ ভাবে আলোকপাত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বাংলার মানুষের দৃঢ় সংকল্পের ফলে এই ভূখণ্ড স্বাধীন ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, উনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিমবাংলা। সমাজ সংস্কার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও দর্শনের ক্ষেত্রে বাংলার অবদান সমগ্র দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি বাংলার মাটি থেকেই সমগ্র দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement

চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মৎস্যচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বন্দর-কেন্দ্রিক অর্থনীতি, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত হতে পারে। কলকাতাকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এশিয়ার অন্যতম সেরা মহানগর হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কৃষকদের ক্ষমতায়ন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ফসলের বহুমুখীকরণের উপর জোর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নই পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হতে পারে।

চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্যও আগামী কয়েক বছর এবং এক দশকের একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উন্নয়ন, সুশাসন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন প্রত্যাশা করে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের গোর্খা সম্প্রদায়ের দীর্ঘ দিনের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন।

পাল্টা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ভরসা, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ এবং অবিচল সমর্থন আমাদের সকলকে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পক্ষ থেকে আমি তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই লক্ষ্যেই সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement