ভোটের জন্য আলোচনা ছাড়াই বাস তুলে নেওয়া হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি বেসরকারি বাস সংগঠনের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন রুট থেকে ভোটের জন্য বাস তুলে নেওয়ার কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করল জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস। সংগঠনের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন, আলোচনাপর্ব সম্পূর্ণ না করেই রাস্তা থেকে সরাসরি বাস অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যা অনৈতিক এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় যে লকডাউন হয়েছিল তাতে বেসরকারি পরিবহণ পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বেসরকারি বাসের সংখ্যা রাস্তায় ব্যাপক হারে কমে গিয়েছে। এমতাবস্থায় কোনও আলাপ-আলোচনা ছাড়া রাস্তা থেকে বলপূর্বক বাস তুলে নেওয়া হলে নিত্যযাত্রীদের বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও পরিবহণ দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তাদের প্রস্তাব, রাস্তা থেকে হঠাৎ করে বাস তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট রুট ও মালিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে বাস নেওয়া হোক। এতে সাধারণ যাত্রী পরিষেবা ব্যাহত হবে না এবং বাসমালিকদেরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। জয়েন্ট কাউন্সিলের অভিযোগ, নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত বাসের জন্য ডিজ়েল খরচ বাদে প্রতিদিন সরকার কত ভাড়া দেবে, সেই বিষয়েও এখনও স্পষ্ট ঘোষণা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পারিশ্রমিক ও অন্যান্য শর্ত চূড়ান্ত না করে কোনও আলাপ-আলোচনা ছাড়াই বাস তুলে নেওয়া শুরু হওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে পরিবহণ মহলে।
তপন বলেন, “নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অবশ্যই বাস দেব। কিন্তু আমাদের পূর্বঘোষিত দাবিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।” তিনি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।
সংগঠনের তরফে ‘রিকুইজিশন স্লিপ’-এর কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয় এবং বাসমালিক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে তারা নতুন করে আলোচনায় উদ্যোগী হয় কি না, তা অবশ্য সময়ই বলবে।