Midday Meal

ভোটের মুখে মিড-ডে মিলে বাড়তি ডিম বা ফল দেওয়ার নির্দেশ, উঠছে প্রশ্ন

বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শিক্ষকদের প্রশ্ন, সামনে ভোট বলেই কি পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মনে পড়ল রাজ্য সরকারের? ১২টি অতিরিক্ত ডিম বা মরসুমি ফলে কি সারা বছরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সরকারি স্কুলে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলে ১২টি অতিরিক্ত ডিম অথবা মরসুমি ফল দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। শিক্ষা দফতরের মিড-ডে মিল বিভাগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নির্দেশ দিয়েছে। সেই অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া হবে ১২ দিন। এক-এক দিনের জন্য পড়ুয়া-পিছু বরাদ্দ আট টাকা। এই অতিরিক্ত ডিম বা ফল প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়াকে দিতে হবে। তাদের অতিরিক্ত পুষ্টির জন্যই এই ব্যবস্থা বলে জানানো হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শিক্ষকদের প্রশ্ন, সামনে ভোট বলেই কি পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মনে পড়ল রাজ্য সরকারের? ১২টি অতিরিক্ত ডিম বা মরসুমি ফলে কি সারা বছরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে? মিড-ডে মিল নিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের জন্য সারা বছরের যে আর্থিক বরাদ্দ থাকে, তা থেকে বেঁচে যাওয়া টাকা দিয়েই ৩১ মার্চের মধ্যে এই অতিরিক্ত ডিম বা মরসুমি ফল কেনা হবে।

বর্তমানে মিড-ডে মিলে প্রাথমিকে পড়ুয়া-পিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা, উচ্চ প্রাথমিকে ১০ টাকা ১৭ পয়সা। সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হয়। কিন্তু শীতের শুরুতেই ডিমের দাম আট-সাড়ে আট টাকা হয়ে যাওয়ায় একটি আস্ত ডিম কী ভাবে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। এখন অবশ্য দাম সামান্য কমেছে। তবে ঠিক ভোটের মুখেই পড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে সরকারের এমন মাথাব্যথা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীলকান্ত ঘোষ বলেন, ‘‘এ বছর ভোট বলেই কি এমন বোধোদয়?’’ একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথায়, ‘‘২০২৪ সালে ছিল লোকসভা নির্বাচন। সে বারও অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে অতিরিক্ত মরসুমি ফল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ভোট এলে তবেই খুদে পড়ুয়ারা একটু পুষ্টি পায়।’’

বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডার বক্তব্য, ‘‘গ্রীষ্মের অতিরিক্ত ছুটির জন্য গত বছর মে মাসে ১৭ দিন মিড-ডে মিল দেওয়া হয়নি। ওই দিনগুলির জন্য মাথা-পিছু প্রাথমিকে ১০৮.৪৬ এবং উচ্চ প্রাথমিকে ১৭২.৮৯ টাকা বরাদ্দ ছিল। যা খরচ হয়নি। এখন বেঁচে যাওয়া টাকা থেকে পড়ুয়া-পিছু ৯৬ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও হিসাব মতো প্রাথমিকে ছাত্র-পিছু ১২.৪৬ টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ৭৬.৮৯ টাকা থেকে যাওয়ার কথা। এই টাকা কোথায় গেল?’’

শিক্ষকদের মতে, অতিরিক্ত ফল বা ডিম দেওয়ার ঘোষণা কিছু দিন আগে করলে ভাল হত। এখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। যে সব স্কুলে পরীক্ষার সিট পড়েছে, সেখানে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ক্লাস হবে না। ফলে, মিড-ডে মিলও বন্ধ। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ১২টি ডিম বা ফল দেওয়ার জন্য মার্চের চার সপ্তাহ সময় পাওয়া যাচ্ছে। এখন সপ্তাহে দু’টি করে ডিম দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ১২টি ডিম বা ফল দিতে গেলে মার্চে সপ্তাহে প্রায় পাঁচ দিন ডিম বা ফল দিতে হবে। মার্চে কোনও ছুটি থাকলে সে দিন অতিরিক্ত ডিম বা ফল দেওয়া যাবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন