এলাকায় পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকেরা। নিজস্ব চিত্র
ফের করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। খণ্ডঘোষের পরে, এ বার বর্ধমান শহরে। সোমবার রাতে শহরের সুভাষপল্লি এলাকার এক মহিলার করোনা-পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজ়িটিভ’ এসেছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই এলাকার একাংশ ‘সিল’ করা হয়েছে। এলাকাটি ‘গণ্ডিবদ্ধ’ বলে ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
সোমবার থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘সিবি-ন্যাট’ যন্ত্রে করোনা-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দিন চার জনের পরীক্ষা হয়। তার মধ্যে ওই মহিলার রিপোর্ট ‘পজ়িটিভ’ আসে। মঙ্গলবার জেলাশাসক (পূর্ব বর্ধমান) বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘ওই মহিলা কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালের নার্স। শনিবার তিনি গাড়িতে বর্ধমানে আসেন। সোমবার নিজেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে করোনা-পরীক্ষা করাতে যান। সেখানে ‘পজ়িটিভ’ রিপোর্ট মেলার পরে, নমুনা আইসিএমআর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। রাতে সেখান থেকেও একই ফল আসে।’’
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সে রাতেই ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের চার জনকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ বর্ধমানের গাংপুরের কাছে ‘কোভিড ১৯’ (প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর) হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। মঙ্গলবার সকালে মহিলাকে কাঁকসায় যে বেসরকারি হাসপাতালটি ‘কোভিড ১৯’ (তৃতীয় ও চতুর্থ স্তর) হাসপাতাল করা হয়েছে, সেখানে পাঠানো হয়েছে।
সুভাষপল্লির মহিলা পূর্ব বর্ধমান জেলায় তৃতীয় করোনা-আক্রান্ত। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হওয়া খণ্ডঘোষের এক ব্যক্তি ও তাঁর এক নিকটাত্মীয় বালিকাকেও কাঁকসার ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তাঁরা ৩০ এপ্রিল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু সোমবার বিকালে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে ওই দু’জনের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার তথ্য নেই। জেলাশাসক স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে খণ্ডঘোষের ওই পরিবারের সংস্পর্শে আসা ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় কারও শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। জেলাশাসক জানান, ওই এলাকা ১৮ এপ্রিল থেকে ‘গণ্ডিবদ্ধ’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ দিন পরে আর ‘গণ্ডিবদ্ধ’ রাখার প্রয়োজন আছে কি না, দেখা হবে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ওই মহিলা কলকাতার সরকারি হাসপাতালে কর্মরত হলেও তিনি হুগলির উত্তরপাড়ায় বাপের বাড়িতে থাকতেন। তাঁর স্বামী বর্ধমানে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থায় কাজ করেন। শনিবার উত্তরপাড়া থেকে বর্ধমানের বাড়িতে আসেন মহিলা। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, তার পরে তাঁকে রাস্তায় বেরোতে, নানা দোকানেও যেতে দেখা গিয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, ‘‘আক্রান্তের স্বামী সোমবার দু’টি অফিসে গিয়েছিলেন। জীবাণুনাশক ‘স্প্রে’ করার পরে, সেই অফিস খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসা পাঁচ জনকে গাংপুরের কাছে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানো হবে। কারা পরোক্ষ সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।