মদমমোহন তলায় সিপিএমের জোনাল অফিসে হামলার পরে। —ফাইল চিত্র।
বড় বড় মিছিল-মিটিং নয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছোট সভায় নজর দেওয়ার কথা বলছেন সিপিএমের উপর মহলের নেতারা। হুগলির ধনেখালিতে অবশ্য ছোট সভা না করে আর উপায়ই বা কী সিপিএমের। একে তো ধনেখালির মদনমোহনতলায় পার্টির জোনাল কার্যালয় খোলাই যাচ্ছে না। দলের নেতারা জানালেন, আলাদা করে আর পার্টি অফিস খোলার মতো অবস্থাই নেই। দরজা-জানলাই তো খুলে নিয়ে লোপাট করে দিয়েছে! লাইব্রেরির বইপত্র গায়েব। কিছু দিন আগে জাঙ্গিপাড়ায় সিপিএমের জোনাল অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। একের পর এক উঠছে মারধর, হুমকির অভিযোগ। সব মিলিয়ে বামেদের একদা খাসতালুক ধনেখালির ছবিটা এ বার বেমালুম পাল্টে গিয়েছে। দেওয়াল লিখন, পোস্টার-ব্যানার, লাল পতাকায় মুড়ে থাকা চেহারাটা এ বার ভোটের দিন ক্ষণ ঘোষণার পরেও কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে। তুলনায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শাসক দল।
এত দিন বামপন্থীদের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠত, সেই সব অভিযোগ এখন শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোলে তারাই।
জাঙ্গিপাড়ায় প্রচারে গিয়েছিল সিপিএমের লোকাল কমিটির নেতা শ্যামল পালধি। অভিযোগ, দেওয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে মারধর করা হয় তাঁকে। রাধানগর অঞ্চলের সোমনগরে দেওয়াল লিখতে গেলে লোকাল কমিটির সম্পাদক বিভূরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। জগন্নাথ মশাট নামে এক সিপিএম সমর্থক বেরিয়েছিলেন প্রচারে। তাঁকে মোটর বাইকে করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ধনেখালির খাকুরদহ, ভাস্তারা, মান্দ্রায় সিপিএমের লোকজন মারধর খেয়েছে দেওয়াল লিখতে গিয়ে। ভান্ডারহাটি, গুড়বাড়িতে সিপিএমের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
কথা হচ্ছিল সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরী, ধনেখালিতে দলের জোনাল সম্পাদক দিলীপ মুখোপাধ্যায়, জাঙ্গিপাড়ায় সিপিএমের জোনাল কমিটি সম্পাদক হরপ্রসাদ সিংহরায়দের সঙ্গে। ধনেখালি, জাঙ্গিপাড়ার প্রায় সর্বত্রই শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুরি ভুরি। সিপিএমের ধনেখালির জোনাল কমিটির সম্পাদক দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের আবার অভিযোগ, তাঁদের এলাকার ২২টি অফিসের মধ্যে জোনাল-সহ বেশির ভাগ অফিসই খোলা যাচ্ছে না। কানানদী লোকাল কমিটির অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এলাকার বেশ কিছু পার্টি অফিস এমন ভাবে ভাঙা হয়েছে, কার্যত কোনও চিহ্নই পড়ে নেই। দলীয় সূত্রের যা পরিসংখ্যান তা হচ্ছে, জাঙ্গিপাড়ায় মোট ১৪টি অফিস রয়েছে সিপিএমের। তার মধ্যে কোতলপুর, দিলাকাশ, রাধানগর, মুণ্ডলিকার অফিসে তালা। ফুরফুরায় তিনটি অফিস অবশ্য আপাতত খোলা। অভিযোগ, গত সোমবার সিপিএম কর্মীরা দলীয় প্রচারে রশিদপুরে গেলে তৃণমূলের সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেয়। মারধর করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেখানে গ্রামের মহিলারা রুখে দাঁড়ালে তৃণমূলের সমর্থকেরা চলে যায়। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, প্রচারে বেরোলেই ধনেখালি বা জাঙ্গিপাড়ার মতো জায়গায় আক্রমণের লক্ষ্য হতে হচ্ছে তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে বলাই বাহুল্য প্রচারের হালে তেমন পানি পাচ্ছেন না বিরোধীরা। অভিযোগ অবশ্য মানছেন না শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা। দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, “সিপিএমের পার্টি অফিস খোলার লোক না থাকলে আমরা তো নির্বাচনের এই ব্যস্ত সময়ে লোকজন ওঁদের ধার দিতে পারব না। মানুষের স্মৃতি কিন্তু দুর্বল নয়। যে অত্যাচার ওঁরা বাম আমলে করেছেন, সে জন্যই মানুষ ওঁদের প্রত্যাখান করেছেন।” ধনেখালির তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্রও বিরোধীদের অভিযোগে আমল দিতে নারাজ।
বললেন, “গত ৩৪ বছরে ধনেখালি অঞ্চলে সিপিএম যে হামলা চালিয়েছে, তার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে দগদগে। হামলাকারীই ভয়ে এখন গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। পার্টি অফিস খুলবে কে? ওঁদের প্রার্থী এবং কর্মীরা নিয়মিত প্রচার করছেন। কেউ তো বাধা দিচ্ছেন না।”