তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূলকে সময় দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যেতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে কমিশন। সোমবারই মমতা দিল্লিতে যাবেন বলে খবর নবান্ন সূত্রে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কয়েক জন সাংসদ। এ ছাড়া, ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবারের কয়েক জন সদস্য তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে প্রতিবাদ জানাতে বুধবারই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল মমতার। দুপুরে হুগলির সিঙ্গুরে জনসভা করেছেন তিনি। তার পরেই রাজধানীর উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের। সেই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন মমতা। তার পরেই নবান্ন থেকে তাঁর দিল্লিযাত্রা স্থগিত করার কথা জানানো হয়। কারণ হিসাবে পরে আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুর থেকে তিনি জানিয়েছিলেন, দু’এক দিনের মধ্যেই দিল্লি যাবেন। এর পর বিকেলে কমিশন তাঁর দলকে সময় দিল।
কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূলের মোট ১৫ জনের প্রতিনিধিদল নির্বাচন সদনে যেতে পারবে। কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে এসআইআর নিয়ে তাঁদের বৈঠক হবে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবিত হয়েও কমিশনের খাতায় যাঁরা ‘মৃত’, তাঁদের কয়েক জনকে ১৫ জনের প্রতিনিধিদলে রাখা হবে।
গত ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই পর্বে অনেকের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের পরিবার মৃত্যুর কারণ হিসাবে এসআইআর-এর আতঙ্ককে দায়ী করেছে। তৃণমূল তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব। অভিযোগ, পরিকল্পনা ছাড়াই ভোটের মুখে তড়িঘড়ি রাজ্যে এসআইআর শুরু করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতার রাজপথে এসআইআরের বিরোধিতায় একসঙ্গে মিছিলেও হেঁটেছেন মমতা-অভিষেক। দাবি, এসআইআর-এর নাম করে সাধারণ মানুষকে অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। এ ভাবে বৈধ ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে। কমিশনের সঙ্গে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপির সমঝোতার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। একাধিক বার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর সংক্রান্ত বিবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু সূত্রের খবর, কোনও চিঠির জবাব আসেনি। এর পরেই দিল্লি যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মমতা। এ ছাড়াও রাজ্যের নানা প্রান্তের জনসভায় প্রকাশ্য় মঞ্চে অভিষেক কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ ব্যক্তিদের তুলেছেন। গোটা প্রক্রিয়ায় কমিশনের গলদগুলি তুলে ধরেছেন।