former Kolkata Police Commissioner and SIR

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার প্রসূন ও তাঁর রাজনীতিক পুত্রকে এসআইআরের শুনানিতে তলব

বর্তমানে বিধাননগরের ডিএল-১৮৩ ঠিকানায় বাস করেন প্রসূন মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার। সম্প্রতি সেই বাড়ির ঠিকানায় এসআইআরের শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্র।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৬
Share:

(বাঁ দিকে) প্রসূন মুখোপাধ্যায়। রণজিৎ মুখোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, কবি জয় গোস্বামী এবং অভিনেতা দেবকে আগেই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-এর শুনানিতে তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় যুক্ত হল কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনারের নাম। কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায় ও তাঁর রাজনীতিক পুত্র রণজিৎ মুখোপাধ্যায়কে শুনানিতে তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। বর্তমানে বিধাননগরের ডিএল-১৮৩ ঠিকানায় বাস করেন প্রসূন ও তাঁর পরিবার। সম্প্রতি সেই বাড়ির ঠিকানায় এসআইআরের শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তার পুত্র।

Advertisement

পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২ সালে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে কমিশনের শুনানিতে তলব করা হয়েছে পিতা-পুত্রকে। কিন্তু এআইসিসির প্রাক্তন সম্পাদক তথা প্রসূন-পুত্র রণজিৎ জানাচ্ছেন, পিতা প্রসূন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৭৩ সালের ব্যাচের আইপিএস। তিনি ১৯৭৩ সাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার। তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কেন নেই ? তাঁর কোন স্পষ্ট ব্যাখ্যা কমিশনের কাছে নেই। শেষ বার ২০০২ সালে যখন এসআইআর হয়েছিল তখন রাজ্য পুলিশের আইজি দক্ষিণবঙ্গ পদে ছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও কী ভাবে একজন প্রাক্তন আইপিএসের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে মুখোপাধ্যায় পরিবার।

ঘটনাচক্র, প্রসূন-পুত্র রণজিৎ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে রণজিতের প্রশ্ন, ‘‘আমি সব তথ্য নথি দিয়ে মনোনয়ন দাখিল করেছিলাম। সেই সময় স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল। সেই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া পাশ করার পরেই আমি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। যদি আমি ভারতের ভোটারই না হই তা হলে সেই সময় আমাকে নির্বাচন কমিশন কী ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়েছিল?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘১৯৯৮ সালে যখন আমার ১৮ বছর বয়স হয় তখন থেকেই আমি নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছি। অথচ জানতে পারলাম ২০০২ সালে নাকি ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল না। আমি এবং আমার বাবা যাবতীয় তথ্য ও নথি নিয়ে এসআইআরের শুনানিতে হাজির হব। এ ক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন, আমাদের কেন প্রমাণ করতে হবে যে আমরা ভোটার তালিকায় ছিলাম? সেই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’’ গত ২০-২৫ বছরে মুখোপাধ্যায় পরিবারের ঠিকানা বদল হলেও বরাবর নিজের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে সচেতন থেকেছে তারা, দাবি মুখোপাধ্যায় পরিবারের। তাই ভোটার তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না তারা।

Advertisement

আগামী ১৪-১৫ জানুয়ারি বিধাননগর মহকুমাশাসকের অফিসে হাজির হতে বলা হয়েছে একদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি পদে থাকা পুলিশকর্তা প্রসূন ও তাঁর রাজনীতিক পুত্রকে। এ বিষয়ে প্রসূন মুখ না খুললেও, তাঁর পুত্র বলছেন, ‘‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে ভাবে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে তা এককথায় নির্লজ্জতা। আমাদের মতো পরিবার হয়তো নিজেদের যাবতীয় তথ্য নথি যত্ন করে রাখে। কিন্তু গ্রামে থাকা গরিব জনতার কি তথ্য নথি সযত্নে রাখার মতো ব্যবস্থা রয়েছে? আসলে এসআইআরের নামে এনআরসি চালু করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন।’’

উল্লেখ্য, নিজের কর্মজীবন নিয়ে বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা প্রসূন। কখনও রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্য করে, কখনও আবার সিএবির সভাপতিপদের যুদ্ধে ক্রিকেট প্রশাসনে জগমোহন ডালমিয়ার বিরুদ্ধে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সমর্থনে ভোটে দাঁড়িয়ে। কিন্তু এই মুহূর্তে এসআইআর বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছে তাঁর নাম।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement