Calcutta High Court

সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট! শিক্ষককে চাকরি দিতে না চেয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রইল কলকাতা হাই কোর্টে

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলেই কোনও প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে চাকরি দেবে— এমনটা নয়। কলেজও নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ করতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ২০:১৮
Share:

—প্রতীকী ছবি।

ফেসবুকে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে সমালোচনা করে পোস্ট। আপত্তিকর মন্তব্য সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধেও। এমন প্রার্থীকে কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করতে আপত্তি জানিয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই প্রার্থী। হাই কোর্টের সিঙ্গল তাঁকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বুধবার সেই নির্দেশ বাতিল করে দিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চের মতে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে বলেই কোনও প্রতিষ্ঠান এমন প্রার্থীকে চাকরি দিতে বাধ্য নয়। নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষার অধিকার কলেজ কর্তৃপক্ষের রয়েছে।

Advertisement

কলেজ সার্ভিস কমিশনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইংরাজির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নরেন্দ্রপুরের রামকৃষ্ণ মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজে নিয়োগের সুপারিশপত্র পেয়েছিলেন মামলাকারী তমাল দাশগুপ্ত। গত ৪ জানুয়ারি তিনি কাজে যোগ দিতে যান। কয়েক দিন কেটে গেলেও তাঁকে নিয়োগপত্র দেয়নি রামকৃষ্ণ মিশন। কলেজের অভিযোগ, ওই চাকরিপ্রার্থী ফেসবুকে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে কটাক্ষ করেছেন । যা রামকৃষ্ণ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের আদর্শের পরিপন্থী। তিনি সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। কলেজ পরিচালন সমিতির বৈঠকে ফেসবুক পোস্টগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। তাদের মতে, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হলেও রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক কলেজ একটি স্বশাসিত সংস্থা। ওই প্রতিষ্ঠান একটি দর্শনের ভিত্তিতে চলে। তমালকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হলে সেই দর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কলেজের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। খারাপ প্রভাব পড়বে ছাত্রদের উপর।

রামকৃষ্ণ মিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা করেন তমাল। তাঁর যুক্তি, ‘‘আমি ফেসবুকে কী লিখেছি সেটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমার মৌলিক অধিকার। আমি শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য নই।’’ তিনি দাবি করেন, কমিশনের মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণ করে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। আইন মোতাবেক সুপারিশপত্র থাকলে কলেজের ইচ্ছার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই।

Advertisement

কলেজ পাল্টা বলে, ‘‘আমরা রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের শিক্ষকদের শুধু তাঁদের পড়ানোর বিষয়টি জানলেই হবে না। তাঁদের চরিত্র, মূল্যবোধ, প্রতিষ্ঠানের আদর্শের প্রতিও সম্মান থাকতে হবে। যদি কোনও শিক্ষক প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তা হলে তাঁকে নিয়োগ করা কলেজের স্বার্থবিরোধী হবে।’’ হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ কলেজের ওই যুক্তি খারিজ করে তমালকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রামকৃষ্ণ মিশন। বিচারপতি বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, আইন অনুযায়ী, নিয়োগ হবে কমিশনের সুপারিশ মেনে। কিন্তু আইনে কোথাও বলা নেই যে, কলেজের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে না। তবে কাউকে নিয়োগ না-দেওয়ার পিছনে কলেজের সিদ্ধান্ত সৎ হতে হবে। খামখেয়ালি হওয়া যাবে না। এবং তা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত হতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনও প্রার্থী নির্বাচিত হলেই চাকরি পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার তৈরি হয় না।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, মামলাকারীকে কেউ ফেসবুকে লিখতে বাধা দেয়নি। ধর্ম পালন করতে বাধা দেয়নি। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলেই কোনও প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে চাকরি দেবে— এমনটা নয়। কলেজও নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ করতে পারে।

দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, ওই চাকরিপ্রার্থীর পোস্টগুলি অশ্লীল বা রাষ্ট্রদ্রোহী কি না আদালত সেই বিতর্কে ঢুকবে না। তবে পোস্টগুলির পরিপ্রেক্ষতে কলেজ যদি মনে করে যে, এই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই নন, তবে সেই সিদ্ধান্তকে আদালত অযৌক্তিক বা বিদ্বেষমূলক বলে মনে করছে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement