জয়দীপ হালদার। —ফাইল চিত্র।
রাত ১১টা নাগাদ মাকে ফোন করে বছর একুশের তরুণ জানিয়েছিলেন, আর একটি জায়গায় খাবার সরবরাহ করা বাকি আছে তাঁর। তার পরেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা পরেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় বার বার ফোন করতে থাকেন মা। প্রথমে কেউ ফোন তোলেননি। পরে পুলিশ ফোন ধরে জানায় দুর্ঘটনার কথা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি থানায় গিয়ে অনলাইন খাবার সরবরাহ সংস্থার কর্মী ওই তরুণের দেহ শনাক্ত করেন পরিজনেরা। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে, বালির জিটি রোডে। মৃতের নাম জয়দীপ হালদার।
পুলিশ জানিয়েছে, যে কলেজে তিনি পড়তেন, ঠিক তার সামনেই বেপরোয়া গতিতে চলা ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে জয়দীপের। ঘুসুড়ির শিবগোপাল ব্যানার্জি লেনে এক চিলতে ভাড়ার ঘরে ছেলে জয়দীপ ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন পেশায় সাইকেল ভ্যান চালক পঞ্চানন হালদার। পড়শিরা জানাচ্ছেন, খুব কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন পঞ্চানন। বেলুড় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে লালবাবা কলেজে বাণিজ্য শাখায় ভর্তি হয়েছিলেন জয়দীপ।
তাঁর মামা কার্তিক শিকদার বলেন, ‘‘নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে দিন-রাত খাটত ছেলেটা। কলেজ শেষ করে ভাল চাকরি করার ইচ্ছে ছিল। সব শেষ হয়ে গেল!’’ বি কমের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র জয়দীপ সকালে একটি কেকের দোকানে কাজ করতেন। দুপুরে কলেজ করে সন্ধ্যা থেকে অনলাইনে খাবার সরবরাহের কাজ করতেন। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে তিনি সেই কাজই করছিলেন। রাত ১১টা নাগাদ মাকে জানান, আর একটি জায়গায় মোমো সরবরাহ করেই বাড়ি ফিরবেন। তাই ছেলের অপেক্ষায় বসে ছিলেন মা। জয়দীপের এক আত্মীয় সুস্মিতা শিকদারের কথায়, ‘‘সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বার বার ফোন করা হলেও জয়দীপ ফোন তুলছিল না। শেষে পুলিশ ফোন ধরে সবটা জানায়।’’
জয়দীপের সহকর্মীদের আক্ষেপ, ‘‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু সংস্থা থেকে কোনও সুরক্ষা মেলে না। জয়দীপের মৃত্যুর খবরেও ওই অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থা থেকে কেউ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’’ ‘টার্গেট’ পূরণ ও বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীদের ঝুঁকি নিয়ে বাইক চালানোর প্রসঙ্গ আগেও উঠেছে। কম সময়ে খাবার পৌঁছে না দিলে গ্রাহকদের থেকে নেতিবাচক রেটিংয়ের আতঙ্ক তাঁদের তাড়া করে।
সেই সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরেই বালির জিটি রোড সংলগ্ন অধিকাংশ রাস্তা বেহাল। রাতে বড়, ভারী লরি, ট্রাক বেপরোয়া গতিতে সেই পথেই ছুটে চলে। বছরখানেক আগে বাদামতলার কাছে সিমেন্ট মিক্সিং যন্ত্রবাহী ডাম্পারের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল একটি ট্যাক্সি। তাতে পিষে মৃত্যু হয়েছিল চালক-সহ সওয়ারি তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে