Bantra Boier Haat

তরুণদের ছাপানো হরফের কাছে টানতে হাওড়ার ব্যাঁটরায় ‘বইয়ের হাট’! বাড়তি পাওনা লেখকের সই-সংগ্রহের সুযোগও

এই বইমেলাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে ‘প্রিয় লেখকের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান। প্রতি বছর বিভিন্ন লেখক আসেন এই অনুষ্ঠানে। নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্য ভাবনা সেখানে সাধারণ পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩১
Share:

হাওড়ার ব্যাঁটরায় ‘বইয়ের হাট’। আয়োজন করেছিল জেলার অন্যতম প্রাচীন পাঠাগার ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি। — নিজস্ব চিত্র।

হাওড়ার ব্যাঁটরায় বসল ‘বইয়ের হাট’। ঘরোয়া আটপৌরে ধাঁচের এক বইমেলা। বিশেষ ছাড়ে পছন্দের বই কেনার সুযোগ তো থাকেই বইমেলায়। তার উপরে এখানে অন্যতম মূল আকর্ষণ হল সরাসরি লেখকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ। পছন্দের লেখকের কাছ থেকে সই সংগ্রহের সুযোগ, যা জেলা বা মফঃস্বলের বইমেলাগুলিতে সচরাচর দেখা যায় না।

Advertisement

প্রতি বছর সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিনের জন্য এই ‘বইয়ের হাট’ বসে ব্যাঁটরায়। উদ্যোক্তা ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি। গত ২২ বছর ধরে এই বইমেলায় আয়োজন করে আসছে তারা। এ বছর বইয়ের হাট বসেছিল ২১-২৬ জানুয়ারি। পাঠাগার ভবন চত্বরেই বসে বইমেলা।

ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের যুগেও যে ছাপানো হরফের প্রতি মানুষের টান রয়েছে, তা প্রতি বছর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ব্যাঁটরার এই ‘বইয়ের হাট’। এই বইমেলাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে ‘প্রিয় লেখকের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান। প্রতি বছর বিভিন্ন লেখক আসেন এই অনুষ্ঠানে। নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং সাহিত্য ভাবনা সেখানে সাধারণ পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তাঁরা। লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সেতুবন্ধনের এক মঞ্চ হয়ে ওঠে ‘বইয়ের হাট’-এর এই অনুষ্ঠান। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, নিমাই ভট্টাচার্য, স্মরণজিৎ চক্রবর্তী, প্রচেত গুপ্ত, দেবারতি মুখোপাধ্যায়, মন্দাক্রান্তা সেন, সায়ন্তনী পুতুতুণ্ড, অভীক সরকার, সায়ক আমান-সহ বিভিন্ন লেখক অতীতে এই অনুষ্ঠানে এসেছেন।

Advertisement

হাওড়ার ব্যাঁটরায় বইয়ের হাট। —নিজস্ব চিত্র।

স্বাধীনতার আগে থেকে পথ চলা শুরু হয় ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরির। তৈরি হয় ১৮৮৪ সালে। পরে ১৯৫৩ সাল থেকে এর ঠিকানা হয় ব্যাঁটরার লক্ষ্মীনারায়ণ চক্রবর্তী লেনে। ইন্টারনেট এবং মোবাইলের যুগে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ছাপানো হরফের কাছাকাছি রাখাই এই ‘বইয়ের হাট’ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বই পড়ার অভ্যাসকে জিইয়ে রাখতেই গত ২২ বছর ধরে সীমিত পরিসরে এই বইমেলার আয়োজন করে তারা। আয়োজকদের কথায়, “কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, শুধু জনমানসে বই পড়ার অভ্যাস বজায় রাখার জন্যই বসে বইয়ের হাট।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement