—প্রতীকী চিত্র।
খিদের চোটে কাঁদছিল ছোট্ট মেয়েটি। বিরক্ত হয়ে তাকে কষিয়ে থাপ্পড় মারেন বাবা। রোগা, অভুক্ত শরীর চপেটাঘাত সহ্য করতে পারেনি। বাবার চড়ে মারা যায় মেয়েটি। দোষ ঢাকতে নাবালিকার দেহ লুকিয়ে ফিলেছিলেন বাবা। ১০ বছর পর তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। বুধবার হুগলির চুঁচুড়া আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রবি শঙ্কর। পেশায় চটকলের শ্রমিক ছিলেন। বাঁশবেড়িয়া-নিমতলার বাসিন্দা ওই যুবক তার পাঁচ বছরের মেয়েকে খুন করে পরিত্যক্ত কারখানায় পুঁতে দিয়েছিলেন।
পরে ওই ঘটনার কথা জানতে পেরে নিখোঁজ মেয়েটির সন্ধান শুরু করে পুলিশ। বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন।
রবির দুই সন্তান ছিল। স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে রাজস্থান চলে যাওয়ার পর দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে থাকতেন রবি। তাদের বাড়িতে রেখে কাজে যেতেন। সারাদিন অনাদর, অবহেলায় কাটত দুই শিশুর। কোনও দিন খাবার জুটত, কোনও দিন জুটত না। ঘটনার দিন রাত ৯টা নাগাদ বাড়ি ফিরেছিলেন রবি। তখন দুই শিশুই খিদের জ্বালায় ছটফট করছে। মেয়ে বাবার কাছে গিয়ে কাঁদতে থাকে। রাগের চোটে তার গালে সপাটে চড় কষান রবি। কান্না থেমে যায়। আর ওঠেনি মেয়েটি।
অন্য দিকে, কন্যাকে মেরে ফেলে তার দেহ লুকিয়ে রাখার জায়গা খুঁজতে থাকেন বাবা। কাছে একটি বন্ধ কারখানা ছিল। রাতের অন্ধকারে সেখানেই পাঁচ বছরের মেয়েকে পুঁতে দেন রবি। মনোজ সাউ নামে এক প্রতিবেশী তা দেখতে পান। তিনি মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাক্রমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সুন্দরগোপাল মুখোপাধ্যায়। তদন্তের পর ৩০৪ ও ২০১ ধারায় চার্জশিট দাখিল হয় আদালতে।
মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন অরূপ চট্টোপাধ্যায়। চুঁচুড়া আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তদন্তকারী অফিসার খুব ভাল তদন্ত করেছেন। মাটি খুঁড়ে দেহ তোলার সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট সমীরণ ভট্টাচার্য। মামলা চলাকালীন তিনি অন্যত্র বদলি হয়েছিলেন। তার পরেও তিনি আদালতে সাক্ষী দিয়ে গিয়েছেন। তার ভিত্তিতেই মামলা দাঁড় করানো গিয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচ বছর জেল খাটার পর জামিন পেয়েছিলেন।
কিন্তু অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রিন্টু শূর তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনান। ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।