ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
আবার ‘এসআইআর ঘটিত’ মৃত্যুর অভিযোগ হুগলিতে। শুনানিকেন্দ্রে লাইনে শুনানির জন্য অপেক্ষারত বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রবিবার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক চাপানউতর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতের নাম মহম্মদ সিরাজউদ্দিন। বয়স ৬০ বছর। রিষড়া পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়ে হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সিরাজের নাম রয়েছে। তার পরেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। শুনানিকেন্দ্রে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাকিল আলি জানিয়েছেন, শনিবার শুনানি ছিল সিরাজউদ্দিনের। শ্রীরামপুরে এসআইআর শিবিরে গিয়েছিলেন তিনি। কাউন্সিলরের কথায়, ‘‘উনি দুপুর ১টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওখানে বসার জায়গাও ছিল না। বিকাল ৫টা নাগাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। তড়িঘড়ি তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’’
মৃতের কী কী শারীরিক সমস্যা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে রাজ্য জুড়ে ভয়-আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি। এখনও পর্যন্ত একশোর বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এই মৃত্যুর দায়ও কমিশনের। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, ‘‘এসআইআরের নামে হয়রানি চলছেই। প্রায় দেড়শো মানুষ মারা গেল! এর দায় নিতেই হবে নির্বাচন কমিশনকে।’’ বিজেপি অবশ্য এ বারও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছে, যে কোনও মৃত্যুকেই এসআইআর-ঘটিত বলে চালাতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। কিন্তু কমিশনে তো এ সম্পর্কিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।