—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের ফুটফুটে শিশু। তাকে খেলার নাম করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তা-ই বিতর্ক আরও তুঙ্গে হুগলির চণ্ডীতলায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগের ঘটনা। বাড়ির পাশে এক দম্পতির কন্যাকে ঘরে ডেকেছিলেন যুবক। আদর করার অছিলায় নাবালিকাকে তিনি যৌন হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হতে পারিবারিক ভাবে ‘মীমাংসা’র চেষ্টা হয়। কিন্তু ‘নির্যাতিতা’র পরিবার থানায় অভিযোগ করবে বলে মনস্থির করে। স্থানীয়দের একাংশ তাতে সমর্থন করে। রবিবার ওই ঘটনার কথা পাঁচকান হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। রুজু হয়েছে পকসো আইনে মামলা। রবিবারই শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল অভিযুক্তকে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতের মা তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। তাই এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হতেও দেরি হয়নি। বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক পিন্টু বেরার কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূলের সংস্কৃতি এমনই। নিজেরাই নিজেদের সমর্থক, পরিবার এমনকি, প্রতিবেশীর উপর অত্যাচার করে। তৃণমূলের পরিবারের ছেলেমেয়েরা সুরক্ষিত কি না, সেটাই আমাদের ভয় এবং সন্দেহ।’’ তাঁরা অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্য দিকে, ‘প্রভাবশালী নেত্রী’র পুত্র হওয়ার পরেও অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করায় ‘খুশি’ তৃণমূল। তাদের দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন আছে বলেই রাজনীতির রং দেখে দোষীকে ছাড়া হয় না। হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটাই গণতন্ত্র। অভিযোগ হওয়ার পরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর পরিবার তৃণমূলের সমর্থক। কিন্তু তাতে কী? পুলিশ নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। দোষ প্রমাণ হলে অবশ্যই শাস্তি হবে।’’
যদিও এ নিয়ে অভিযুক্তের পরিবারের তরফে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।