—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
বিধানসভা ভোটে গ্রামীণ হুগলিতে দলের ভরাডুবির নেপথ্যে ফসলের দাম না পাওয়া বড় প্রভাব ফেলেছে বলে তৃণমূলের একাংশ মনে করছে। আশ্বাস সত্ত্বেও কৃষিভিত্তিক শিল্পস্থাপন সেই ভাবে না হওয়াতেও কৃষিজীবী থেকে মধ্যবিত্ত মানুষ বিমুখ হয়ছেন বলে তাদের ধারণা।
হুগলিতে এ বার প্রচুর আলু ফলেছে। চাষিদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার আশ্বাস দিলেও সহায়ক মূল্যে আলু কেনা সে ভাবে হয়নি। তার উপরে চাষিপিছু আলু কেনার ঊর্ধ্বসীমা ছিল মাত্র ৩৫ কুইন্টাল। তারকেশ্বরের রামনগরের কৃষক অনুপ মাঝি বলেন, ‘‘হিমঘরে ঠাঁই না পাওয়ায় এখানকার বহু চাষি খেতের এক দিকে আলু ডাঁই করে রেখেছিলেন। গরমে, বৃষ্টির জলে আলু নষ্ট হয়েছে। বিঘে বিঘে জমিতে চাষ করে রাজ্য সরকারের মাত্র ৩৫ কুইন্টাল আলু কেনার শর্তে অনেক চাষিই আগ্রহ প্রকাশ করেননি।’’
পোলবা-দাদপুর ব্লক থেকে শুরু করে ধনেখালি, তারকেশ্বর হয়ে আরামবাগের পুড়শুড়া পর্যন্ত আলু চাষের বিরাট এলাকা রয়েছে। এই সমস্ত এলাকার কৃষিজীবী মানুষ এবং সংগঠনের সঙ্গে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থাও বার বারই
রাজ্য সরকারকে সর্তক করেছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে বুঝে মুখ্যমন্ত্রী কৃষি-বন্ডের জন্য ৪০ কোটি টাকা সংস্থানের কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি
হয়ে গিয়েছে।
পোলবার এক তৃণমূল নেতা তথা কৃষিজীবীর কথায়, ‘‘একশো দিনের কাজ বন্ধ থাকায় মানুষের হাতে
টাকা নেই। পেট চালাতে তাঁরা লাগোয়া জেলায় খেতমজুরি করতে যাচ্ছেন। যাঁদের জমি আছে, তাঁরা ফসলের দাম পাননি। সব মিলেই গ্রামীণ এলাকার মানুষ আমাদের থেকে মুখে ফিরিয়েছেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এটা বুঝে আমরা দলকেও জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি যখন সরকার বুঝল, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।’’
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘সভা-সমাবেশে শুনি, কৃষিভিত্তিক শিল্প। বাস্তবে কোথায়? হুগলি, বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার মতো আলু উৎপাদক জেলায় কৃষিনির্ভর শিল্প কোথায়? তার উপরে রাতারাতি সম্মেলন করে আলু ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন খাড়া করে দিলেন এক মন্ত্রী! কৃষিজীবী পরিবার এ সব ভাল ভাবে নেননি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে আমরা সুযোগ পেলে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কথা বলব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে