অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত শিশু-সহ এক পরিবারের তিন

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক শিশু-সহ তিন জনের। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়ার জয়নগর দক্ষিণপাড়া গ্রামে। মৃতেরা হলেন, গায়ত্রী ঘোষ (৬৫), তাঁর বৌমা মৌসুমী ঘোষ (৩৫) এবং নাতি অয়ন (৪)।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ অগস্ট ২০১৬ ০২:০২
Share:

পুড়ে ছাই বাড়ি। মঙ্গলবার ছবিটি তুলেছেন সুব্রত জানা।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক শিশু-সহ তিন জনের। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়ার জয়নগর দক্ষিণপাড়া গ্রামে। মৃতেরা হলেন, গায়ত্রী ঘোষ (৬৫), তাঁর বৌমা মৌসুমী ঘোষ (৩৫) এবং নাতি অয়ন (৪)। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল যান। তিন জনের দেহ উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। আর পোড়া জিনিসপত্রের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে দমকল সূত্রের খবর।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তের পরে জানিয়েছে, সিলিন্ডারের পাইপ লিক করে গ্যাস বেরিয়ে যায়। তার জেরেই আগুন লেগেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকা দেওয়াল ও টালির চাল দেওয়া এক কামরার ঘরে মা গায়ত্রীদেবী, স্ত্রী মৌসুমী ও ছেলে অয়নকে নিয়ে বসবাস করতেন ব্যবসায়ী অনুপ ঘোষ। ব্যবসার জিনিসপত্র কিনতে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। রান্না হত বাড়ির দাওয়াতেই। সেখানেই রয়েছে উনুন। তার পাশেই সিলিন্ডার। বৌমা ও নাতিকে নিয়ে এক পড়শির বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন গায়ত্রীদেবী। নাতির দুধ গরম করার জন্য বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে আসেন তাঁরা। দুধ গরম করার জন্য উনুন ধরাচ্ছিলেন মৌসুমীদেবী। লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় রান্নাঘরে। ভয়ে তিনি ঘরের ভিতরে ঢুকে যান। ঘরের মধ্যে ছিলেন শাশুড়ি ও ছেলে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের ভিতরে। শাশুড়ি ও বৌমার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, উদ্ধার কাজে হাত লাগানো সম্ভব হয়নি।

Advertisement

গ্রামবাসী সুকান্ত প্রামাণিক বলেন, ‘‘আমরা সিলিন্ডারটিকে কোনওমতে বারান্দা থেকে বের করে আনি। কিন্তু ভিতর থেকে কাউকে উদ্ধার করতে পারিনি। ভিতর থেকে চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু আমরা একেবারে অসহায় ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে দমকলকে খবর দেওয়া হয়।’’ দমকল আসার আগেই অবশ্য বালতিতে করে জল এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পরে যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু কাউকেই বাঁচানো যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, যে সংস্থা থেকে গ্যাস নেওয়া হয়েছিল তারা রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি ঠিকমতো করেছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ফোনে ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের দাবি, পাইপে কোনও গোলমাল দেখা গেলে তা যদি তাদের কাছে জানানো হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেটি মেরামত করে দেওয়া হয়। এইরকম কোনও অনুরোধ ওই পরিবারের তরফ থেকে আসেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement