সাঁতরাগাছি ঝিল বাঁচাতে জরিমানা ঘোষণা পুলিশের

শনিবার সাঁতরাগাছি ঝিল সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তেমনটাই জানিয়েছেন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার তন্ময় রায়চৌধুরি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৮ ০০:১৯
Share:

সচেতন: ঝিল বাঁচাতে মিছিল। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

সাঁতরাগাছি ঝিলে আবর্জনা ফেললে এ বার দিতে হবে জরিমানা। হাওড়া সিটি পুলিশ এমনই ব্যবস্থা নিতে চলেছে। শনিবার সাঁতরাগাছি ঝিল সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তেমনটাই জানিয়েছেন হাওড়ার পুলিশ কমিশনার তন্ময় রায়চৌধুরি।

Advertisement

প্রায় ১৩ লক্ষ ৭৫ হাজার বর্গফুটের ওই বিরাট ঝিল বাঁচাতে এ বার পথে নেমেছে পুলিশও। এ দিন ওই এলাকায় সিটি পুলিশ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিয়ে মিছিল করে। ওই ঝিলের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এমন কিছু কেউ করলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এ দিন বার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং-এর অঙ্গ হিসাবে হাওড়া সিটি পুলিশের ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ প্রকল্পে এ দিন ওই সভার আয়োজন করে হাওড়া পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা ছাড়াও সহ পরিবেশ বিজ্ঞানী, পরিবেশ কর্মী, আরও অনেকেই।

গুরুত্বপূর্ণ ওই পাখিরালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে রেলের সঙ্গে রাজ্যের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। অভিযোগ, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হলেও পরিযায়ী পাখিদের আবাসস্থল ওই ঝিলটি রক্ষণবেক্ষণ করে মূলত রাজ্য সরকারে বিভিন্ন দফতর। কিন্তু দিনের পর দিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝিলটি একটি আবর্জনা ফেলার জায়গা হয়ে গিয়েছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ঝিলটি বর্তমানে পরিষ্কারের দায়িত্ব হাওড়া পুরসভার। তা সত্বেও এ বছরও বর্ষার পরেই কচুরিপানা পরিষ্কার না হওয়ায় ঝিলে পরিযায়ী পাখি আসার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

ফলে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কলেজ নিজেদের অর্থ দিয়ে কয়েক দিন আগে ঝিলটি পরিষ্কারের উদ্যোগী হয়। এর পরেই ঝিল পরিষ্কার করে এলাকায় সচেতনতার সভা ও মিছিল করতে উদ্যোগী হয় হাওড়া সিটি পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার তন্ময়বাবু বলেন, ‘‘কয়েক জনের পক্ষে এই ঝিল পরিষ্কার করা বা ঝিলটিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। আমরা তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে একটা সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করছি।’’

পুলিশ কমিশনার জানান, ঝিলে নানারকম বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এখন থেকে পুলিশ সে দিকে লক্ষ রাখবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী অভিজিৎ মিত্র, পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত, অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায় আইএমএ হাওড়ার সহ সভাপতি সুজয় চক্রবর্তী- সহ অনেকেই। পরিবেশ বিজ্ঞানী অভিজিৎবাবু বলেন, ‘‘কচুরি পানা জল বিশুদ্ধ করে। তাই ঝিলে কিছু কচুরি পানা থাকা দরকার। তবে এত কচুরিপানার প্রয়োজন নেই।’’

তবে এ দিনের অনুষ্ঠান, মিছিল এমন সময়ই হয়েছে যখন প্রায় গোটা ঝিল কচুরি পানায় ভরে রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পুরসভার কিছু লোক পানা সরাবার কাজ করলেও ঠিক কত দিনে ঝিল পাখি বসার পক্ষে উপযুক্ত হয়ে উঠবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement